সাব্বিরের সেঞ্চুরিতেও এড়ানো গেল না লজ্জার হোয়াইটওয়াশ

0
87

 

 

প্রথম দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করে পেস-স্যুয়িংয়ে লুটোপুটি খেয়েছিল টপ অর্ডার। এবার পরে ব্যাট করে হলো আরও করুণ দশা। সিরিজ হার হয়েছে আগের ম্যাচেই। মিশন ছিল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর। তবে তারচেয়ে বেশি ছিল নিউজিল্যান্ডে মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস জড়ো করা। হয়নি না কিছুই। এবার আগের দুই ম্যাচে না খেলা টিম সাউদি একাই সর্বনাশ করে ছেড়েছেন বাংলাদেশের।  হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আরেকটি হতাশার দিনে প্রাপ্তি কেবল সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি।

বুধবার ডানেডিনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ৩৩০ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমেছে ২৪২ রানে। ৮৯ রানের লড়াইবিহীন আরেকটি হারে সিরিজে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। নিউ জিল্যান্ড হয়ে রইল বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের ঠিকানা।

এই নিয়ে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৪ ম্যাচের সবকটি হারল বাংলাদেশ।

আগের দুই ম্যাচেই ৮ উইকেটে যেতা নিউজিল্যান্ড এবার আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে তোলে ৩৩০ রান। এই মাঠের সবশেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৩৩৫ রান তাড়ায় দুই ওপেনারকে শূন্য রানে হারানোর পরও জিতেছিল কিউইরা। অপরাজিত ১৮১ করেছিলেন রস টেইলর। এবার বাংলাদেশ ২ রানে হারাল ৩ উইকেট। পরে সেঞ্চুরি করলেন সাব্বির। তবে টেইলরের সেই সেঞ্চুরির সঙ্গে পার্থক্য থাকল অনেক, সাব্বির পেলেন না মিডল অর্ডারে যোগ্য সঙ্গও। বাংলাদেশ থমকে গেছে তাই ২৪২ রানে।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০২ রানে আউট হয়েছেন সাব্বির। প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া টিম সাউদি ফিরেই নিয়েছেন ৬ উইকেট; রান যদিও দিয়েছেন ৬৫।

মোহাম্মদ মিঠুন নেই। ব্যাটিংয়ের দায়িত্বটুকু আজও নিতে পারেনি টপ অর্ডার। পারেন নি তামিম (০), লিটন (১), সৌম্য (০)। চেষ্টা করেও পারেন নি এই ম্যাচে অনিশ্চয়তায় থাকা মুশফিকও। পাজোরে বাথা নিয়েই নেমেছিলেন, তবে লম্বা করতে পারেন নি ইনিংস, থেমেছেন ১৭ রানে। কিছুটা লড়াইয়ের আভাস ছিল মাহমুদউল্লার ব্যাটেও, সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। বাজে শটে ফিরেছেন ১৬ রানে ক্যাচ দিয়ে।

৩৩১ রানের পাহাড়সম টার্গেট। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ভীষণ চাপের মুখে তাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাব্বির রহমান। এখন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৫৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ফিফটি পাওয়ার পর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে খেলেছেন ইনিংস সর্বোচ্চ ১০২। সাইফুদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।

বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের এটি শেষ ওয়ানডে। ‘প্রস্তুতির মঞ্চে’ আগের দুই ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ে অল্প রানের পুঁজি মাত্র ৪ ব্যাটসম্যান মিলেই টপকে যান। বোলারদের অনুশলনে ঘাটতি না হলেও বাটসম্যানদের প্রস্তুতিটা পুষিয়ে নিতে এই ম্যাচে আগে ব্যাট করার ইচ্ছা আগের দিনই পোষন করেছিল নিউজিল্যান্ড। সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বেশ ভালো ভাবেই। আজ টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিই। সেখানেই করেছেন ভুল।

কেবল কলিন মানরো ছাড়া অবদান রেখেছেন দলের আর সবাই। শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে টানলেন হেনরি নিকোলাস। নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানে পৌঁছানোর দিন রস টেইলর খেললেন দায়িত্ব নিয়ে। ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৯ রানের পথে টেইলর উঠে গেছেন দেশের হয়ে ওয়ানডে রানের চূড়ায়। তাদের পর ফিফটি পেলেন এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা টম ল্যাথামও। তাদের দেওয়া ভিতের উপর ঝড় তুলেন জিমি নিশাম, শেষটায় তান্ডব চালিয়ে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম দলকে নিয়ে গেলেন চূড়ায়।

ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে আগে ব্যাট করে ৩৩০ রান করে ৬ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবার হারাতে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জই পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রথম দুই ম্যাচে আগে আগে ব্যাট করে ভুগতে হয়েছিল। শুরুর এক ঘন্টাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে টস জিতে তাই আগে ফিল্ডিং বেছে পরিস্থিতি বদলাতে চেয়েছিলেন মাশরাফি। তিনি নিজে আর মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন করেন আঁটসাঁটও বোলিং, মাঝের ওভারে রান আটকে দেওয়ার কাজ করেন মিরাজও।

তবে বাকি দুই পেসার রুবেল হোসেন আর মুস্তাফিজুর রহমানের দেদারসে রান বিলানোর দিনে ভুগেছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজ তো ১০ ওভারে ৯৩ রান দিয়ে কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে দিন। রুবেল ৯ ওভারে দেন ৬৪ রান।

ইনিংসের প্রথম ২৫ ওভারে কিউইদের রান ছিল ১২০। পরের ২৫ ওভারে এসেছে ২১০।