জাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রশাসনের ১৩ দাবি পূরণের আশ্বাস

0
55

 

নববর্ষের দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মেডিকেল সংস্কারের’ দাবিতে আন্দোলন করে। এই আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ১৩টি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসূচী শুরুর মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে আরো ৩জন শিক্ষার্থী যুক্ত হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনের পরে শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে গিয়ে সেখানে দাবি আদায়ের লক্ষে অবস্থান নেয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসনে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালন ও আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রোভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়।

এই সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-

১. ২০ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।

২. তদন্ত সাপেক্ষে নুরুজ্জামান এর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩. ২৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেবুলাইজার, ইসিজি মেশিন, জেনারেটর ক্রয় করতে হবে।

৪. ১৩ই জুনের মধ্যে ৫টি আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন (লাইফ সাপোর্ট) এম্বুলেন্স মেডিকেলে যুক্ত করতে হবে ।

৫. সপ্তাহে ৭ দিন সর্বক্ষণ অন্তত ৪জন ডাক্তার থাকতে হবে।

৬. ঔষধ ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

৭. ঔষদের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।

৮. মেডিকেলের আসন বাড়াতে হবে।

৯. পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি বিভাগ চালু করতে হবে।

১০. এপ্রিলের মধ্যে ফিজিও থেরাপি নিয়োগ দিতে হবে।

১১. সকল শিক্ষার্থীকে মেডিকেল কার্ড প্রদান করতে হবে।

১২. অভিযোগের জন্য সার্বক্ষনিক হটলাইন চালু করতে হবে।

১৩. পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।

এসব দাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেনে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করার আশ্বাস প্রদান করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিকাল ৪টার দিকে মেডিকেল থেকে ফিরে আসেন। অন্যদিকে এসব আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে অবস্থান নেওয়া ৫ শিক্ষার্থীও বিকাল ৫টার দিকে তাদের অবস্থান কর্মসূচী তুলে নেন।

এদিকে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রশাসনের নিকট ১৩টি দাবি জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের ১৩টি দাবি মেনে নিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। যদি নির্দিষ্ট সময়ে দাবি আদায় না হয়, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচী দিয়ে আবার আন্দোলনে নেমে দাবি আদায় করে ছাড়বো।

এদিকে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কেন্দ্রীয় মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল করেছে। তবে এই শোকের মধ্যেও কিছু বিভাগকে নববর্ষ উৎযাপন করতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের এক শিক্ষার্থী শনিবার রাতে মেডিকেলে নেওয়ার সময় এম্বুলেন্সে মারা যায়। এই মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মেডিকেলে অব্যাবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত জিনিসপত্র না থাকাকে দায়ি করে। রাতেই তারা আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।