যশোরে শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশের মর্মান্তিত রহস্য

0
111

 

যশোরের মণিরামপুরে অপহূত স্কুলছাত্র তারিফ হোসেনের (৯) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার ছিলুমপুর এলাকার একটি কালভার্টের নিচ থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর বিল্লাল হোসেন (১৫) একই রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ বিল্লাল হোসেনের লাশ যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে গত রবিবার বিকেলে তারিফকে অপহরণ করা হয়েছিল ।

শিশু তারিফ উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লাল একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা ওরফে কাঠু মোস্তফার ছেলে। তারিফ উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং বিল্লাল গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে লিমা খাতুন (২০) এবং আমিন সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

শিশু তারিফের মামা আক্তার হোসেন বলেন, “গত রবিবার বিকেলে তারিফ তার যমজ ভাই তাসিফের সঙ্গে মাঠে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় তাসিফ বাড়ি ফিরলেও তারিফ ফেরেনি।

অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারিফকে না পাওয়ায় পরের দিন সোমবার মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তারিফদের বাড়ির পাশে একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেই চিঠিতে লেখা ছিল ‘তারিফকে আমরা অপহরণ করেছি। পাঁচ লাখ টাকা দিলে তাকে মুক্তি দেব। ’ চিঠিতে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হয়। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। সেই বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি এজেন্ট মালিককে খুলে বলা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সেই দোকানে টাকা নিতে আসে বিল্লাল। ওই সময় এজেন্ট মালিক কৌশলে বিল্লালকে আটকে রেখে আমাদের খবর দেয়। আমরা মণিরামপুর থানায় যোগাযোগ করলে কেশবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিল্লালকে আটক করে পুলিশ। ”

শিশু তারিফের আরেক মামা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আটকের পর বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ছিলুমপুর গ্রামের একটি কালভার্টের নিচ থেকে ভাগ্নে তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ’ তিনি বলেন, ‘তারিফের বাঁ চোয়ালে কোপের চিহ্ন রয়েছে এবং তার ঘাড় মচকানো ছিল। উদ্ধারের সময় তারিফের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় বিল্লাল ছাড়াও আরো অনেকে জড়িত আছে। ’

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম এনামুল হক বলেন, ‘বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অপহূত শিশুকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার সময় সাতনল (খানপুর) জোড়া ব্রিজ এলাকায় ওত পেতে থাকা বিল্লালের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তখন সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিল্লাল রক্তাক্ত জখম হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভোরে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিল্লালকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয় একটি কালভার্টের নিচ থেকে অপহূত শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ’

পুলিশ দাবি করেছে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সেই অপহরণকারীর বাড়িতে আগুন এদিকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লালের বাড়ি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারিফের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে পৌঁছানোর পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিল্লালের বাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুনে বাড়িটির তিনটি ঘর, আসবাবপত্র, একটি ভ্যানসহ অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে যায়।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে শিশু তারিফের লাশ বাড়িতে পৌঁছলে বিক্ষুব্ধ জনতা অপহরণকারী বিল্লালের বাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশু তারিফ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ’