বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে কৃষক লীগের শ্রদ্ধা

0
82

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগ।

আজ ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ এর সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশ কৃষক লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেশবরণ্য ও বর্ষিয়ান সংগ্রামী কৃষক নেতা আলহাজ্ব মোঃ মোতাহার হোসেন মোল্ল্যার নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ কৃষক লীগের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তরা বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানে দীর্ঘ কারাবাস শেষে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেণ। স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী কারাগারে আটক রাখেন। কারাগারে বন্দী করা হলেও বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার নামেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। সেদিন বাংলাদেশে ছিল এক আনন্দ উৎসবের আমেজ। গোটা বাঙালি জাতি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল। কখন তাদের প্রিয় নেতা, স্বাধীন বাংলার মহান স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীন দেশের মাটিতে আসবেন। পুরো দেশের মানুষই যেন জড়ো হয়েছিল তেঁজগাঁওস্থ ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায়। বিমানবন্ধর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান  ( বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) পর্যন্ত রাস্তায় জনতার ঢল নামে। সেদিন সোহরাওয়াদী উদ্যানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙ্গালি জাতির এই ভালোবাসার ঞ্চণ শোধ করে যাবো। কথা রেখেছেন জাতির পিতা। পাকহানাদাররা যার গায়ে আঁচড় দেওয়ার সাহস পায়নি, স্বাধীন দেশের এক শ্রেণীর বিশ্বাসঘাতক ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের হাতে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ বাঙালি থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বক্তরা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তিও চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে অগ্রগতির সে যাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে। বক্তরা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ খুব শ্রীঘ্রই মধ্য আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।