বেনাপোলে মানবতার দেয়াল : সাড়া ফেলেছে ১৮ শিক্ষার্থী

0
82

 

‘মানুষ মানুষের জন্য শুধু একটু সহানুভূতি-মানুষ কি পেতে পারে না ও বন্ধু’ ভূপেন হাজারিকার কণ্ঠে সেই বিখ্যাত গানের কথায় রূপ দিয়েছে তারুণ্য-১৮ এর ১৮ শিক্ষার্থী। ব্যতিক্রমী ‘মানবতার দেয়াল’ নির্মাণ করে সাড়া ফেলেছে যশোরের বেনপোল সীমান্তে।

প্রচণ্ড শৈত্য প্রবাহে যখন কাপছে দেশ-দুর্ভোগে এলাকার ছিন্নমূলের মানুষ ঠিক সেই সময়ে বেনাপোল মহাসড়কের পাশেই জনসম্মুখে উন্মুক্ত স্থানে দেয়ালে লেখা হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। এক পাশে লেখা হয়েছে এখানে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান। আর এক পাশে লেখা হয়েছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান। বাসাবাড়িতে বা ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে থাকা পুরানো ও অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র ও আসবাপত্র স্বেচ্ছায় মানবতার দেয়ালে রেখে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। এসব বস্ত্র মনের আনন্দে নিয়ে যাচ্ছে পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষেরা। অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের উপকার করতে পারায় খুশি অনেকে।

আব্দুল জব্বার, মরিয়ম বেগম ও আবদার হোসেন জানান, বাড়িতে অনেক ভালো ভালো পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ছোট হয়ে যায় অনেক জামাকাপড়। অনেক আসবাপত্র ও বস্ত্র তারুণ্য-১৮ আহবানে সাড়া দিয়ে মানবতার দেয়ালে রেখে যেতে পেরে ভাল লাগছে।

অনেকেই দিচ্ছেন সাড়া।

মানবতার দেয়ালে সাড়া দিয়ে শুক্রবার আলোচনা সভা করেছে এলাকার মানুষ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, শার্শা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম, পৌর কাউন্সিলর আহাদুজামান বকুল, সাংবাদিক মসিয়ার রহমান, আজিজুল হক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, এয়াকুব আলী, নাসির উদ্দিন, শুকুর আলী, মিজানুর রহমান, আলী হোসেন, রায়হান খান, আলামিন, আসিফ, সাকিব, রাব্বি, মাসুদ, মামুন মেহবুব, মাসুদ প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী বেনাপোলের বড় আঁচড়া গ্রামের রোমিও হাসান হিরোর আহবানে তারুণ্য-১৮ এর উদ্যোগে সমমনা ১৮ জনকে নিয়ে গঠন করা হয় ‘মানবতার দেয়াল’ তারুণ্য-১৮ কমিটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে সদস্য। প্রচারণা, সংগ্রহ ও বিতরণ করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র। বেনাপোল রিপোটার্স মাল্টিপারপার্স সমিতি ও জিওসি সমবায় সমিতির সহযোগিতায় বেনাপোল বাজার, বন্দর এলাকা ও সীমান্ত এলাকায় ৩টি স্পটে নির্মিত হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডটি। এখান থেকে বস্ত্র দিতে ও নিতে পেরে খুশি এলাকার বিত্তশালী, সাধারণ মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষেরা।

ভ্যানচালক, ট্রাকের হেলপার ও এক শ্রমিক বলেন, এমন ধরনের পোষাক কেনার সমর্থন নেই তাদের। কোনো টাকা ছাড়াই রাস্তার ধারে খোলামনে পছন্দের পোশাক নিতে পেরে খুবই খুশি লাগছে তাদের।

তরুণদের এ মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান, স্থানীয় ফজলুর রহমান, শুকুর আলী ও এয়াকুব সর্দার। দেশব্যাপী মানবতার দেয়াল ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ কর্মকান্ডে খুশি। সহযোগিতা করতে চান তারা।

পৌর কাউন্সিলর আহাদুজামান বকুল বলেন, মানবতার সেবাই বড় ধর্ম। বর্হিবিশ্বের ছেলেদের ন্যায় এলাকার ছেলেদের এমন বড় একটি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। সব এলাকায় এ দেয়াল ছড়িয়ে দিতে পারলে উপকৃত হবে গা গ্রামের পা ফাটা গা ফাটা মানুষেরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ‘মানবতার দেয়াল’ মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে, আবেগ আপ্লুত অনেকেই। এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বেনাপোল ‘মানবতার দেয়াল’ তারুণ্য-১৮ কমিটির সাধারন সম্পাদক রোমিও হাসান হিরো বলেন, দেশে বৈরি আবহাওয়া বইছে। এ জন্য মানবতার দেয়াল কাজে আসবে। কমবে ধনী গরিবের বৈষম্য। ৩টি স্পটে ‘মানবতার দেয়াল’ থেকে অসহায় মানুষেরা পাচ্ছে তাদের বস্ত্রের সন্ধান। মানবতার এ উদ্যোগটি আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক দেশব্যাপি-জয় হোক তারুণ্যের এ আশা নিয়েই এগিয়ে যেতে চান উদ্যোক্তরা।