ভুলের হিসাব মেলাচ্ছে বিএনপি

0
65

 

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শুরু থেকেই কৌশলগত অসংখ্য ভুলের চোরাবালিতে আটকে ছিল বলে মনে করছেন দলের অনেক নেতা-কর্মী। সেই ভুলের খেসারত হিসেবেই নির্বাচনে দলের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনে বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে তৃণমূল পর্যায়ের হতাশ নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার উপায় খুঁজছে বিএনপি।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কয়েক দফা বৈঠক করে তাগিদ দেওয়ার পরও নির্বাচনে অনিয়মের প্রত্যাশিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি দলটি। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে কোন কৌশল নিয়ে সামনে এগোবে তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ভোটের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ নিয়েও বিপাকে রয়েছে দলটি, যার ভিত্তিতে আদালতে মামলা করার কথা ছিল। সূত্রমতে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকেই মাঠ ছেড়ে দেওয়া বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের শুরু থেকেই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সেভাবে পরিলক্ষিত হয়নি। তারা কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করবে, কীভাবে সরকার গঠন করবে, কে তাদের মুখ্য নেতৃত্বে থাকবেন- তা মোটেও সুনির্দিষ্ট ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতারা অনেকটা হাত-পা ছেড়ে বসে ছিলেন। বিএনপির হাইকমান্ডসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কর্মীদের উদ্দেশে ভোট কেন্দ্র পাহারা ও সকালে ভোটের বাক্স পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রভিত্তিক ভোট রক্ষা কমিটির করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু বাস্তবে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের সাড়া মেলেনি। ভোটের কয়েকদিন আগে থেকে ধানের শীষের প্রার্থীরা মাঠ ছেড়ে দেন। বিএনপির অনেক প্রার্থী প্রচারণায় নামেননি। এমনকি পোস্টারও ছাপেননি। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ অনেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই চলে আসেন মাঠের বাইরে। বিএনপি নেতাদের প্রচারণা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মূলত ফেসবুককেন্দ্রিক ছিল। তারা আশা করছিলেন, ধানের শীষের পক্ষে ‘একটি ভোট বিপ্লব’ হয়ে যাবে। বিএনপির পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। কিন্তু দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকায় সমর্থকরাও তেমন সাড়া দেননি।

তথ্য সংগ্রহ নিয়ে বিপাকে বিএনপি : নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে বিপাকে রয়েছে বিএনপি। প্রতিটি নির্বাচনী আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। তার ভিত্তিতেই প্রতিটি সংসদীয় আসনের ভোট কেন্দ্রভিত্তিক অভিযোগ দায়ের করার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফলাফল পাচ্ছেন না বিএনপির প্রার্থীরা। কারণ, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অন্যদিকে প্রার্থীর এজেন্টদের কাছ থেকে ফল পাওয়াও অনেক কঠিন। অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের এজেন্টই ছিল না। সূত্রমতে, স্থানীয়ভাবে ফলাফল সংগ্রহ করে অভিযোগ দায়ের করাও কঠিন। কারণ, পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের ফলাফলের সঙ্গে অভিযোগের ফল না মিললে অভিযোগই খারিজ হয়ে যেতে পারে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা মনে করেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণে নিরপেক্ষতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে হেরে গেছে বিএনপি। এসব কারণে তারা নির্বাচনের আগে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। নির্বাচনের বেশ আগেই তাদের মাঠ ছেড়ে দিতে হয়। অন্যদিকে বিএনপি ভোটের আগের রাতে প্রশাসনের সহায়তায় ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ করলেও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারছে না। নির্বাচনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও ঐক্যফ্রন্টের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে নির্বাচনে অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় ও ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন নেতারা। কিন্তু অপর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কত দূর এগোনো যাবে তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বিএনপি নেতারা।

অতিনির্ভরতার বিপদ : বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার মতে, নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব ছিল ঐক্যফ্রন্টের হাতে, যার চূড়ান্ত ‘অপব্যবহার’ হয়েছে। বিএনপি নেতাদের নির্ভরতা ছিল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ওপর। শুরুতে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা নিয়ে দলে বিভক্তি ছিল স্পষ্ট। এক পক্ষ প্রকাশ্যেই বলতে থাকেন দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর গ্রেফতার-হামলা বেড়ে গেলে প্রতিকূল পরিবেশের অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে একটি অংশ শক্তভাবে অবস্থান নেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ অনেকে প্রকাশ্যে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার পক্ষে ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন নেতার জোরালো অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, ওদের বেআইনি কোনো আদেশ মানবেন না। ক্ষমতায় তো সরকার পাঁচ বছর থাকে। সেই পাঁচ বছর শেষ। আর কয়দিন আছে। মাত্র ১০, ২০ বা ১৫ দিন। অন্যদিকে নির্বাচনের দেড় সপ্তাহ আগে ঐক্