বিবেকের কষ্টিপাথরে কাজী এনায়েত উল্লাহর মন্ত্রীত্ব অযৌক্তিক

0
372

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ। রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশের সকল অঞ্চল হতে কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সকল অভিবাসী কর্মীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এটি প্রবাসী বাংলাদেশী এবং প্রবাসী কর্মীদের তথ্য, সহযোগীতা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সর্বোপরি বলা যায়, প্রবাসীদের ভাগ্য সু-প্রসন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  সুতরাং উক্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সৎ, যোগ্য এবং প্রবাসীবান্ধব ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সেই লক্ষ্যে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের একটাই চাওয়া, তাদের কল্যাণে কাজ করবে এমন কাউকেই উক্ত পদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

সম্প্রতি উক্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ব্যাপারে যাকে নিয়ে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে তিনি হলেন কাজী এনায়েত উল্লাহ। আর উনাকে নিয়েই জোরালো আপত্তি তুলেছেন  প্রবাসীরা। কাজী এনায়েত উল্লাহ ফ্রান্সের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী তা আমাদের বাঙ্গালীর গৌরব। এটা  আমাদের আনন্দের বিষয়। তবে প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব উনি পালন করতে পারবেন সেটা আমরা কখনো বিশ্বাস করি না। উনি ব্যাবসা ও ব্যাক্তিগত পরিচয় ফুটিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে ফ্রান্স তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত  ব্যাবসায়ী ও গণমাধ্যমের কিছু সাংবাদিক নিয়ে চলাফেরা করেন। কিন্তু সাধারণ প্রবাসীদের জন্য উনি কি করেছেন ?

প্রবাসীদের হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও উনার ভূমিকা কি ছিল ? প্রাথমিক সহযোগিতার জন্যও কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ফ্রান্সে ভিনদেশীদের দ্বারা বাঙ্গালীরা যখন নির্যাতন হয়েছিলেন তখন এই প্রবাসী মন্ত্রীর দাবিদার কোথায় ছিলেন?  মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী ভাইদের কষ্টের জীবনের মূল্য কি বোঝবেন এই বিলাসী ব্যাবসায়ী?

প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি দীর্ঘদিন সাধারণ প্রবাসীদের কাছে থেকেছেন, সুবিধা-অসুবিধাগুলো ভালোভাবে বোঝেন। অনেক আওয়ামীলীগ নেতারা রয়েছেন যারা বিনাস্বার্থে প্রবাসেও দলের জন্য কাজ করছেন। অনেক মুক্তিযুদ্ধারা রয়েছেন যারা জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য স্বাধীনতা এনেছেন। অথচ তারা আজ যথাযথ মূল্যায়ন না পেয়ে প্রবাসে দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত জীবনযাপন করছেন। তারা দল ও বাংলাদেশকে সমুন্নত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি কারো নজরদারি নেই।

কাজী এনায়েত উল্লাহর খেয়ে-পড়ে গুণ গেয়ে বেড়ানো  কিছু লোক উনাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী দাবি করার পূর্বে চিন্তা করা উচিত ছিলো, উনি কি  সাধারণ প্রবাসীদের নেতা বা আওয়ামীলীগের কোন ত্যাগী নেতা, যে কারণে উনি এই পদে আসীন হতে পারেন। সাধারণ প্রবাসীদের জন্য কি এমন করেছেন? দীর্ঘ ৮ বৎসরের এই ফ্রান্সের জীবনে তেমন কিছুই লক্ষ্য করিনি। উনি কিভাবে মন্ত্রীত্বের দাবি করছেন? এটা এতো সহজ নয়। যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয় তিনি কিভাবে মন্ত্রী হবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিবেদিত প্রাণ, তিনি অবশ্যই এমন কাউকে  প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিবেন, যিনি সাধারণ প্রবাসীদের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং সাধারণ প্রবাসীদের মনের ভাষা বোঝেন।

ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাসহ বিপুলসংখ্যক ত্যাগী নেতা-কর্মী ফ্রান্সে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই করে সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান ও প্রবাসীবান্ধব কাউকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করছি।