ঐক্যফ্রন্টের ‘জাতীয় সংলাপ’ ২৮ জানুয়ারি

0
78

 

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ২৮ জানুয়ারি ‘জাতীয় সংলাপ’ করবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এই সংলাপ হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করার জন্য ডাকা এই সংলাপে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দলগুলোকেও সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্র শিগগিরই পৌঁছে দেওয়া হবে আমন্ত্রিতদের কাছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন এই সংলাপের ডাক দিয়েছেন। এই সংলাপে দেশের বিশিষ্টজন, দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকা হবে। এই সংলাপে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা ঠিক করা হবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকা দলগুলোকে ডাকা হবে। ’

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীও কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই এটা সিদ্ধান্ত ছিল। এখন সেটা কার্যকর হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সংলাপে যাঁরা আসবেন তাঁরা সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে কথা বলবেন। ’

প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। সরকারবিরোধী জোটটি সম্প্রতি ‘জাতীয় সংলাপ’ করার ঘোষণা দেয়।

এদিকে নির্বাচনের আগে যেসব দল ও জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের ফের গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল তিনি এ কথা জানান। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘জাতীয় সংলাপ’ করার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এলো।

এই বার্তার পর বিএনপির ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, কী কারণে এই সংলাপ সেটা তাঁরা আগে ভেবে দেখবেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একই মঞ্চে একই নাটক ভালো লাগে না। ’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘এক সংলাপে ডেকে তো নির্বাচন করে নিয়েছে, এখন কী কারণে তারা সংলাপ ডেকেছে, তা আমাদের দেখতে হবে। আমি মনে করি, এই সংলাপ দিয়ে কিছু হবে না। ’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘সরকারের ডাকা সংলাপকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আমাদের জাতীয় সংলাপের আগে আমরা এই সংলাপে অংশ নেব কি না, সেটা নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। ’