মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ওসি জামাল উদ্দিন মীর

0
194

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ মাদক দমনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজধানী ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মীর।মাদক ব্যবসার সথে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন। আজ ২৯ জুন ২০১৮ রোজ শুক্রবার নবোদয় হাউজিং সি ব্লক জামে মসজিদ মোহাম্মদপুর ঢাকা মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। তাই মাদক দমনে সবাইকে সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি তরুণদের মধ্যে এই বোধ জাগাতে পারে- মাদক কতটুকু ক্ষতিকর, তাহলে সবাই তা বুঝতে পারবে। জঙ্গিবাদকে আমরা যেমন দমন করেছি তেমনি মাদককেও দমন করতে চাই। মোহাম্মদপুর বাসীকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহায়তাও কামনা করেন জনাব জামাল উদ্দিন মীর। জনাব জামাল উদ্দিন মীর আরো বলেন, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে বাড়ির মালিকদেরকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অপরাধী বিভিন্ন এলাকায় ভূয়া পরিচয় দিয়ে অনেক সময় বাসা ভাড়া করেন। ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য ও ছবি থাকলে তাদেরকে চিহ্নিত করা সহজ হবে। বেশ কিছু বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকও উদ্ধার করছে। এ সব দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন। এছাড়াও আপনাদের বাসা বাড়ীতে কাজের ছেলে-মেয়ে ও ড্রাইভার রাখেন, তাদের বিষয়ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন। তারা যদি আপনাদের বাসা বাড়ীতে কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে আমাদের চিহ্নিত করতে সহজ হবে। কোন বাড়িতে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি ধরা পড়লে সে বাড়ির মালিককেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তির বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার আপনার সন্তান কোথায় যায়, কি করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, সময় মতন স্কুল-কলেজ থেকে বাসা বাড়ীতে আসছে কিনা, ল্যাপটপ-মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন খারাপ লোকজনের সাথে যোগাযোগ করছে কিনা, সে সব বিষয়ে অবশ্যই খোজ খবর রাখবেন। সন্তানদের যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে সেটা ভাল করে শোনা এবং তাদের সঙ্গে পারস্পরিক একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরী করা। আপনার আমার সন্তান মানুষের মতন মানুষ না হলে সম্পতি থেকেও কোন লাভ হবে না, জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গীরা হামলা করে কযেকজন বিদেশীকে হত্যা করেছিলো। তাছাড়াও উপমহাদেশের বৃহত্তম শোলাকিয়ার ঈদজামাতকে টার্গেট করে জঙ্গী হামলা করেছিলো। আমরা আগে মনে করতাম সবি হয়তো মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদের টার্গেট করে ধর্মাদ্ধ-উগ্রবাদি গোষ্ঠীরা এ গুলি করছে। আসলে সেটা পুরাপুরি সটিক না। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন নামকরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাবেক শিক্ষকরা এর জড়িত। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার তরে প্রথম যে বাহিনী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। এতে অনেকেই শহীদ হন। বর্তমানে জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের দমন করতে যেয়ে অনেক পুলিশ অফিসার শহীদ হয়েছে। কাজেই জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের এদেশে আশ্রয় দিতে পারি না। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বর্তমানে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসীদেরকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি এই বাংলাদেশে জায়গা হতে পারে না। মোহাম্মদপুরে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং মাদকাসক্তির প্রতিরোধ করার জন্য মসজিদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, খতীব এবং মুসল্লিগণ মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মরীকে অভিনন্দন জানান।