সদ্য নির্বাচিত চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু

0
113

সমসাময়িক রাজনীতি, নিজের অভিজ্ঞতা, ছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে কী ধরণের রাজনীতি তাঁর প্রত্যাশা, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ কোন কোন বিষয়ে কাজ করবে এবং দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রভাতের ডাক সাথে কথা বলেছেন সদ্য নির্বাচিত চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন ইকবাল হোসেন জীবন।
প্রভাতের ডাক: ঐতিহাসিক একটি ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার পর আপনার অনুভূতিটা কেমন?
তানভীর তপু: এ প্রসঙ্গে আমার অনুভূতি অনেকটা মিশ্র, বলতে গেলে অনেক বেশি গৌরবের, অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। গৌরবের বলবো এজন্যই যে, দীর্ঘ ২৭ থেকে ২৮ বছর পর মিরসরাই অঞ্চল থেকে জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে একজন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে আমার প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আর চ্যালেঞ্জিং বলবো এই কারণে আগামী দিনের যে আন্দোলন সংগ্রামের প্রেক্ষাপট আসছে সেটা আসলে খুব সন্নীকটে। সেটা সামনে রেখে আমার দায়িত্ব পালন করাটা এই মুহুর্তে খুবই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি আশাবাদী আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর সিনিয়রদের পরমার্শ নিয়ে ইনশাল্লাহ্ আমি মোকাবিলা করতে সামর্থ হবো।
প্রভাতের ডাক: পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে আপনার পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়টুকু তুলে ধরুন।
তানভীর তপু: আমার ছোট্ট রাজনৈতিক জীবনে পরিচয় বলতে আমরা পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। আমার মা একজন জনপ্রতিনিধি। ২০০২ সাল থেকে তিনি আজবধি মিরসরাই পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুই দুইবার মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে মিরসরাই উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নিযুক্ত আছেন। রাজনৈতিক দীক্ষাটা আমি আমার ঘর থেকে পেয়েছি। ছোটবেলা থেকে আমি বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা সম্পর্কে সচেতন। তাদের প্রতিচ্ছবিটা আমি আমার জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়েছি। আর সে লক্ষ্যে মুজিব আদর্শের একজন যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সেই স্কুল বেলা থেকে আমার মধ্যে ছিল। সেটা আসলে ধীরে ধীরে আজকের এ পরিণতি লাভ করেছে।
প্রভাতের ডাক: আপনি সংগঠনকে কীভাবে পরিচালনা করতে চান? বিশেষ করে মিরসরাই উপজেলা ইউনিট গুলোকে কিভাবে ঢেলে সাজাতে চান?
তানভীর তপু: ছাত্রলীগকে পরিচালনা করার জন্য আমাদের যে গঠনতন্ত্র সেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে, ছাত্রলীগকে কিভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতিটা ছাত্রনেতাদের হাতে থাকবে, ক্যাম্পাস ভিত্তিক যে রাজনীতি সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার সাথে আমার উত্তর জেলার ১০টা ইউনিট আছে যার মধ্যে সাতটি উপজেলা এবং তিনটি বিশ^বিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। এই কলেজগুলোতে এখন রাজনৈতিক যে অবস্থা সেটা অতীতের চেয়ে চর্চা অনেক বেশি হচ্ছে। আমি চেষ্টা করবো আমার এলাকায় যেসব কলেজ বিশ^বিদ্যালয় এবং অন্যান্য ইউনিট রয়েছে এগুলোতে প্রকৃত ছাত্রদের মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করতে।
আরেকটা বিষয় মিরসরাইতে সব মিলিয়ে ২১টি ইউনিট রয়েছে তার মধ্যে ১৬টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও তিনটি কলেজ এগুলাতে রাজনৈতিক চর্চা অনেক বেশি হয়। মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগে যারা আছেন তাদেরকে আমি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে সহযোগীতা করবো। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন, যারা নিয়মিত ছাত্র তাদের হাতে যেন ছাত্ররাজনীতিটা থাকে। সেটার জন্য যা যা করা দরকার আমি আমার অবস্থান থেকে উপজেলা ছাত্রলীগকে নিয়ে সেটা করার চেষ্টা করবো।
প্রভাতের ডাক: শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ছাত্রলীগকে আপনি কেমন ভূমিকায় দেখতে চান? আধিপত্য কায়েম, শুধুমাত্র ছাত্রলীগের অধিকার, নাকি সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ভূমিকায় দেখতে চান?
তানভীর তপু: আসলে ছাত্রনেতাদের মূল কাজ হচ্ছে ছাত্রদের অধিকার আদায়। এটা একেকজন একেক ব্যানারে করে। ছাত্রলীগ শুধুমাত্র ছাত্রদের অধিকার আদায়ের সংগঠন নয়। বঙ্গবন্ধুর হাতে এ সংগঠন সৃষ্টির পর থেকে যতগুলো জনমুখী আন্দোলন হয়েছে সবকটিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্র যখন মুখথুবড়ে পড়েছে তখনি ছাত্রলীগ তার অবস্থান থেকে সোচ্চার ছিলো। ছাত্রলীগের সৈনিকরা একদিন পড়ার টেবিল থেকে উঠে গিয়ে দেশের জন্য অস্ত্র হাতে নিয়েছিল এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানী শোষকদের থেকে ছিনিয়ে এনে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র তৈরি করেছিল। আমার যে প্রত্যাশা তা হল ছাত্রদের হাতে থাকবে ছাত্ররাজনীতির নাটাই আর সাধারণ ছাত্রদের মৌলিক অধিকারগুলো কাজ করবে ছাত্রলীগ।
প্রভাতের ডাক: আপনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর আপনার দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী আপনার বিরোধীতা করেছে, সেক্ষেত্রে আপনি তাদের দলের স্বার্থে তাদের কাছে টেনে নিবেন, নাকি তাদের পাশ কাটিয়ে নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পথ চলবেন?
তানভীর তপু: আসলে এটা একটি ভিন্নধর্মী প্রশ্ন, সরাসরি প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ। আসলে রাজনীতিতে বিরোধীতা থাকে সেটা শুধু এখন না বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম দিক থেকে এটা বহমান। কেউ আমাকে কম পছন্দ করে আবার কেউ আমাকে বেশি পছন্দ করে। আমি বলবো এটা আমার ব্যর্থতা। আমি আমার দলের সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমার কর্মকান্ডে হয়তো কেউ কষ্ট পেয়েছেন আবার হয়তো দেখা গেছে যে শুধু শুধু কারো বিরোধীতা করাও কারো কারো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যাক এই বিষয়ে আমার বেশি কথা বলার নাই। তবে আমি চেষ্টা করবো যেহেতু আমি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, উত্তর চট্টলায় আমার অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে সবাইকে নিয়ে আমার পথ চলতে হবে, তবে ছাত্রলীগ যারা করে তারা অপছন্দ করলেও তাদেরকে নিয়ে আমার পথ চলতে হবে এবং পছন্দ করলে তাদের নিয়েও পথচলতে হবে। যেহেতু আমি এখানে ছাত্রলীগের অভিভাবক এবং আমার যে সম্পাদক আমরা চেষ্টা করবো যারা আমাদের বিরোধিতা করেছেন তাদেরকে নিয়ে আমাদের সংগঠন গোছানো। কারণ এটা ছাড়া ছাত্রলীগের বিকল্প কোন পথ নেই এবং আমি সবসময় ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির উপর গুরুত্বারোপ করি।
প্রভাতের ডাক: মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
তানভীর তপু: পরিকল্পনা বলতে আমি বারবার বলছি যারা ছাত্রনেতা যারা পড়ালেখা নিয়মিত করে, যারা আদর্শিক চেতনায় বিশ^াসী, যারা পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে ছাত্ররাজনীতিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভিন্ন ধর্মী যারা মতাদর্শের কেন তারা ছাত্রলীগ করবে এই জিনিসটা বুঝিয়ে ছাত্রলীগের যতগুলো ইউনিট রয়েছে তাদেরকে মুজিব আদর্শের যে চেতনা তাদের ভিতরে সঞ্চারণ করাটা আমার মৌলিক উদ্যেশ্য মূল পরিকল্পনা।
প্রভাতের ডাক: আগামী নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা ও অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকান্ড নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
তানভীর তপু: আসলে নির্বাচন নিয়ে যে পরিকল্পনা সেটা নিয়ে বলতে গেলে আমাদের দেশরতœ শেখ হাসিনা যাকে নৌকার জন্য মনোনীত করবেন যাকে নমিনেশন দিবেন আমরা ওইসকল প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবো। আমাদের অভিভাবক আমাদের আস্থা-ভরসার শেষ ঠিকানা দেশরতœ শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিবেন তার ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম উত্তরের সবকটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবরকম সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রভাতের ডাক: যে সকল ইউনিটে ছাত্রলীগের একাধিক গ্রুপ বিরাজমান ওই সকল ইউনিটে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আপনার পরিকল্পনা কি?
তানভীর তপু: বিষয়টা আসলে খুভ বেশি কঠিন যে সেটা নয়, এখন বিষয়গুলো হচ্ছে যারা বিরাজমান তাদের মধ্যে বিভাদের সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে কারণ গুলো চিহ্নিত করে তাদের সাথে সমন্বয় করে রাজনীতি করা যায় তাহলে কোনো সমস্যা থাকার কথা না। আমি চেষ্টা করবো বিরাজমান গ্রুপগুলোর সাথে সমন্বয় করে তাদের অভ্যন্তরে থাকা বিবাদ মিটিয়ে সামনের পথচলা মসৃণ করতে।