দিনাজপুরে ছয় উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

0
315

এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর) নবাবগঞ্জ, দিনাজপুরঃ
দুর্নীতিবাজদের না সাধারন গ্রাহকের ? দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বর্তমান জিএম সন্তোষ কুমার সাহা। সীমাহীন দুর্নীতি,অনিয়ম,স্বেচ্ছাচারিতা,গ্রাহক হয়রানী, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতমূলক কর্মকান্ডে ছয় উপজেলার গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন জিএম সন্তোষ কুমার সাধারন গ্রাহকদের নাকি শুধু দুর্নীতিবাজদের ?
বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গ্রাহকদের তের বছর আগের ভুতুড়ে বিল পরিশোধের নোটিশ দেয়। তা না হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুুব্ধ হয়ে পড়লে এবং গ্রাহকদের অভিযোগে জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হলে বিষয়টি চেপে যান জিএম সন্তোষ কুমার। এ মাস থেকে বকেয়া আদায় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন জিএম সন্তোষ কুমার কিন্তু, ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ এতেও হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব। যে সব গ্রাহক নিরীহ তাঁদের উপর চলছে নিয়মের খড়ক আর যারা ম্যানেজ করতে পারছে কিছুই হচ্ছেনা তাদের । অভিযোগে জানা যায়, বিরামপুর পৌর শহরের পুরাতুন বাজার মহল্লার বাবা ওয়েল মিল দীর্ঘদিন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকার পাশে শুকনো মরিচ ভাঙা শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর অভিযোগ পূর্ববর্তী জিএম আব্দুর রাজ্জাক বাবা ওয়েল মিলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। সেই সাথে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে নোটিশ দেন। কিন্তু সন্তোষ কুমার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ যোগদান করার পর ওই মিলে সকল প্রকার নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে উঠেপড়ে লাগেন। তথ্য অধিকার আইনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ আবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া শুধু মাত্র মুচলেকা নিয়ে ২০১৭ সালের ২০ মার্চ বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। মুচলেকায় আ. ছামাদ উল্লেখ করেন যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ জমা করবে। কিন্তু অদ্যবধি পরিবেশ ছাড়পত্র দিনের পর দিন শুকনো মরিচ ভেঙ্গে পরিবেশ দুষণ করার বিষয়ে জিএম সন্তোষ কুমার সাহাকে মুঠোফোনে জানানো হলে এবং এজিএম আব্দুল খালেক (ইএনসি) নিজে এসে শুকনো মরিচ ভাঙার প্রমাণ পেয়ে নোট দিলেও জিএম সন্তোষ কুমার রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেননি। অবশেষে এক প্রকার বাধ্য হয়ে ২৮ জুন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বাবা ওয়েল মিলকে নোটিশ দেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ দিলেও জিএম বাবা ওয়েল মিলের মালিকের ছেলেকে বুদ্ধি দেন যে, এমপিসহ আওয়ামীলীগের নেতারা জিএমকে যেনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাঁধা দেন। তাহলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবেন না। গত ২৮ জুন সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করলে মুঠোফোনে জিএম সন্তোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে জিএম সন্তোষ কুমার জানান,স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ এমপি সাহেব নিষেধ করেছে তাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিনি। তাছাড়া ঐ মিল মালিক ইতি মধ্যেই আমাদের নোটিশের জবাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে এমপি শিবলী সাদিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে এমপি শিবলী সাদিক জানান, তিনি জিএমকে এ ধরনের কোন নিষেধ করেন নি। আসলে জিএম মিথ্যা কথা বলেছেন।

এ দিকে গত জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল তৈরী, বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিটার না দেখে ধারণার ওপর ভিত্তি করে মাসিক বিল তৈরি করার অনেক অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। মিটার রিডারদের ভুল ও হেয়ালিপনার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহকরা। এছাড়া ট্রান্সফরমারগুলোও অন্তহীন গ্রাহক ভোগান্তির কারণ। এগুলোতে সঠিক মান না থাকায় প্রায় সময় নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎহীনতা সৃষ্টি করে চলেছে। অধিকাংশ গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিল সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা হলেও এক মাসে সেই বিল হয়ে যায় ১ হাজার।
এ নিয়ে অনেক দেন দরবারের পরও বিষয়টির সুরাহা হয় না। গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়ে উপজেলার দাউদপুর পালপাড়ার মোঃ সবিজুল ইসলাম বলেন, আমি দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর (আবাসিক) গ্রাহক হিসাব নং-২৬৯/১০৩৬ চলতি মাসের বিদ্যুৎ এর ১৫০ ইউনিট ব্যবহার করি ফলে আমার বিল প্রস্তুত কারী সাদিয়া, আমার বিল পেপারে বিদ্যুৎ বিলের রিপোর্ট ৮০৭ টাকা কিন্তু আমার প্রতিবেশি অনন্ত কুমার যাহার (আবাসিক) হিসাব নং- ১২২/৩১১০ চলতি মাসে বিদ্যৎ ব্যবহার করেন ১৫০ ইউনিট কিন্তু তার বিল প্রস্তুত কারি দুলালী বিল পেপারে বিল রিপোর্ট দেয় ৭৮১ টাকা। তাহলে একই পিলার থেকে দুই বাড়িতে লাইন দেয়া কিন্তু একই পরিমান ইউনিট ব্যবহার হলেও বিল আসে দুই ধরনের। আর কি ভাবে আসে বিল দু-ধরনের বিদ্যুৎ অফিস কি নিজের খেয়াল খুশি মত নাকি নেশা গ্রস্থ অবস্থায় বিল তৈরী করে। একবার ভুল বিল হলে তা আর সংশোধন হয় না। পরবর্তী মাসে সমন্বয় করা হবে বলা হলেও পরে আর হচ্ছে না।
বিল নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও আমলে নেয় না কর্তৃপক্ষ। হালুয়া ঘাটের মোঃ শাহিন আলম বলেন, সামসুজ্জাহা (আবাসিক) হিসাব নং- ১২২/৩৫৪২ এই বিলেও একই গড় বড় দেখা যায়। ক্ষেত্র বিশেষে ১৩ টাকার বিল হয়ে যায় ১৫শ টাকা। মাসের পর মাস এরকম বিল আসলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। বরং উল্টো বিল পরিশোধ করতে হয়। তিনি বলেন গরিব মানুষ এতগুলো টাকা আমাকে দিতে হলো। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর কার্যালয়ে অনেক ঘুরা ঘুরি করেও লাভ হয় না কোন গ্রাহকের।