পানছড়িতে ১৩ জন ভিক্ষুকদেরকে আর্থিক সহায়তা ও ছাগল বিতরণ

0
491

মিঠুন সাহা, পানছড়ি, খাগড়াছড়িঃ  খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় আজ ০৪/০৭/১৮ ইং রোজ বুধবার সকাল সারে ১১.৩০ টার সময় একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের পুনর্বাসন কর্মসূচির তহবিল থেকে ১০ জন ভিক্ষুকের মধ্যে  ৯ জনকে ২ টি করে ছাগল ও ১ জনকে ১০’০০০ টাকা আর্থিক পুঁজি  দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে গত ১২/০৬/২০১৮ ইং তারিখের অবিতরণকৃত ৩ জনকে দুইটি করে ছাগল দেওয়া হয়েছে।১ম দফা এবং ২য় দ্বিতীয় দফায় মোট ২৫ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসিত  করা হয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচিটি পানছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবুল হাসেম মহোদয় এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাবু সতীশ চব্দ্র চাকমা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পার্বত্যজেলা পরিষদ খাগড়াছড়ি,একটি বাড়ি, একটি খামার কর্মকর্তা জনাব রফিকুল ইসলাম, পানছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত)  লোকমান হোসেন, ৩নং সদর  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজীর হোসেন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গা,সহ উপজেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সহযোগীতায় ছিল একটি বাড়ি,একটি খামার প্রকল্পের আওতাধীন এবং বাস্তবায়নে ছিলেন পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন , পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবুল হাসেম জানানঃ সারা বাংলাদেশের ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের পুনর্বাসিত করতে দেশব্যাপী চলছে ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্প। নতুন করে প্রকল্পের আওতায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় একসঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি ভিক্ষুক পুনর্বাসন কাজ করা হবে।ফলে প্রকল্পে চতুর্থ সংশোধন আনা হবে। দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া ভিক্ষুকদের ক্ষুদ্র ব্যবসা, গরু-ছাগল কেনাসহ আয়বর্ধক কাজে ঋণ দেবে সরকার। তিনি আরো জানান  একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের অধীনেই আগামী ৬ মাসের মধ্যে পানছড়িকে ভিক্ষুকমুক্ত করে পুনর্বাসিত করার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমরা। একটি বাড়ি,একটি খামার কর্মকর্তা জনাব রফিকুল ইসলাম জানানঃ পানছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতায় ২০১৯ সালের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা অনুযায়ী সারা বাংলাদেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করণ করার লক্ষ্যে আমরা পানছড়িতেও  ভিক্ষুক মুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তালিকায় অন্তর্ভূত ৫২ জন ভিক্ষুকের মধ্যে মোট ৪০ জন ভিক্ষুককে সঞ্চয় বাবদ জন প্রতি ৪,৮০০ টাকা করে মোট ১’৯২’০০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে বাকী ভিক্ষুকদের সঞ্চয় ও আর্থিক সহযোগীতার আওতায় আনা হবে। এখন যেকোন ভিক্ষুক ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে জন প্রতি ১০’০০০ টাকা কিংবা এর বেশি করে ঋণ নিয়ে  ক্ষুদ্র ব্যবসা,কৃষি কাজ ও পশুপালনের করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। জানু সাঁওতাল নামের এক ভিক্ষুক মহিলা আবেগে আপ্লুত হয়ে জানানঃএখন ঠিক মতো হাঁটতে পারিনা,আগের মত ভিক্ষা করার শক্তি ও সামর্থ্য ও নেই।ছেলে সন্তান কেউ নেই,আমাদের কেউ দেখার মত কেউ নেই।এই দুটি  ছাগল পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।ওনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা জানান ।