শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হতে হবে

0
224

দেশে অন্তত ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে পীড়নের শিকার- জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক জরিপে উঠে এসেছে বিষয়টি। ‘বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা’ শীর্ষক জরিপটিতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুকে

অন্তর্ভুক্ত করা হয়- যাদের ৩২ শতাংশ নানাভাবে সহিংসতা, উৎপীড়ন ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় হুমকি পর্নোগ্রাফি। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক ‘বি স্মার্ট ইউজ হার্ট’ কর্মসূচিতে চার লাখ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করেছে ইউনিসেফ ও গ্রামীণফোন। দেশজুড়ে চলা ওই কর্মসূচিতে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছাড়াও ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক, বাবা-মা ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

গত বছরের জুন মাসে গ্রামীণফোন, টেলিনর গ্রুপ ও ইউনিসেফের যৌথ অংশীদারিত্বে কর্মসূচির শুরু হয়। চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা তৈরি করা এবং চাইল্ড হেল্পলাইন (১০৯৮) সেবার বিস্তৃতি; যেখানে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি পরামর্শও সুবিধা।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত হয়ে বলা যায়, কেবল বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই শিশু পর্নোগ্রাফি মানবসভ্যতার জন্য, বিশেষত শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য হুমকিস্বরূপ। কাজেই সরকারের উচিত এ থেকে শিশুদের রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। তবে কেবল সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই হবে না, অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ জরিপে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ বয়সের শিশুদের ভালোমন্দ পার্থক্য করার বোধ তৈরি না হওয়ার কারণে তারা যে কোনো ধরনের লোভে পড়ে নিজেদের হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এমনকি নিজের অজান্তে অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনদের জন্যও তৈরি করতে পারে ফাঁদ। এমন নজির বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। সুতরাং শিশুদের ডিজিটাল জগতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

ফিল্টারিং বিকল্পগুলি ওয়েবসাইট এবং পরিষেবাদিগুলির মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে, উদাহরণস্বরূপ ইউটিউব বা ‘নিরাপদ অনুসন্ধান’ সেটিংস গুগল বা বিং হিসাবে সার্চ ইঞ্জিনে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এমনকি শিশুদের জন্য অভিযোজিত কিছু পরিষেবা রয়েছে (যেমন YouTube কিডস এবং বিবিসি iPlayer কিডস অ্যাপ্লিকেশন)।

অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত হতে পারে, সুতরাং এটি একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড চয়ন এবং ভাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফিল্টারগুলি একটি ভাল শুরু বিন্দু তবে এটি 100% কার্যকর নয় তা স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ।

তারা একটি দুর্দান্ত সাহায্য, কিন্তু একটি সমাধান নয়, এবং আপনার সন্তানদের অনলাইনে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয় তা বুঝতে সহায়তা করার জন্য পিতামাতার তত্ত্বাবধান এবং আকর্ষনের সাথে একত্রে ভালভাবে কাজ করে। শিশুরা বড় হয়ে ওঠা, তাই তাদের অনলাইন প্রয়োজনগুলি, তাই আপনি মাঝে মাঝে আপনার পিতামাতার নিয়ন্ত্রণগুলি পর্যালোচনা করতে পারেন।

উদ্বেগের বিষয় হল, অনলাইনে ৭০ শতাংশ শিশুই অপরিচিতদের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে এবং ১৪ শতাংশ অপরিচিতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পরপর দেখা করতেও যায়। এতে করে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি মতাদর্শের মতো গুরুতর বিষয়েও শিশুদের জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। শিশুরা নানা ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অহেতুক জিম্মি হয়ে প্রাণঘাতীমূলক পরিস্থিতিতে পড়ছে অহরহ।

পিতামাতার সঙ্গে শত্রুতার অজুহাত তোলা হচ্ছে তাদের অবুঝ শিশুকে হত্যা করে। এ অবস্থায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ও অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা মনে করি, সরকারের সুরক্ষা নীতিমালা, কঠোর ডিজিটাল ও পর্নোগ্রাফি আইন এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে শিশুদের রক্ষাকবচ হতে। সন্তান জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদ। সে কী করছে- বাস্তব জীবনে ও অনলাইনে কাদের সঙ্গে মিশছে- এসব পর্যবেক্ষণ করা এবং সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেয়ার মাধ্যমেই তাদের জীবন নিরাপদ করা যেতে পারে।