পানছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবু বিজয় কুমার দেব এর সংক্ষিপ্ত সাদামাটা জীবনী

0
483

মিঠুন সাহা,পানছড়ি খাগড়াছড়ি:: বাংলাদেশের প্রত্যেকটা উপজেলায়,প্রত্যেকটা এলাকায় গ্রামে,গঞ্জে সর্বত্রে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ/আওয়ামীলীগের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার পেছনে আছে কিছু নিঃস্বার্থবান নিবেদিত মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম,থাকে একেকটা যুদ্ধ জয়ের গল্প।একটা সংগঠন,একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে এবং সেই সংগঠনের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে বহু ত্যাগ তিতিক্ষা সহ অনেক বন্ধুর পথ মারিয়ে যেতে হয়।একেকটা পাহাড় সমান বাধাকে ডিঙিয়ে যাওয়ার পরে তবেই আসে সোনালী দিনের দেখা।

আজকে পানছড়িতে সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তি প্রিয় পরিবেশ পাওয়ার পেছনে রয়েছে কিছু নিঃস্বার্থবান নিবেদিত মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম।যারা মৃত্যুর দোয়ারে দাঁড়িয়েও পেছনে ফিরে আসেন নি,পানছড়ির মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার আশায় এবং একটা শান্তিময় পানছড়ি গড়ার প্রত্যাশায়।

খাগড়াছড়ির জেলার পানছড়ি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন  আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পেছনে এবং সেই সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার পেছনে আছে এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত মানুষের গল্প।যারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে আজকে এই পানছড়িতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আওয়ামীলীগের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং টিকিয়ে রেখেছেন।তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন বাবু বিজয় কুমার দেব।রাজনৈতিক জগতে ওনার আর্বিভাবের পথ এতোটা সুগম ছিল না। সেইদিনের দিনগুলো বিপদ সংকুলময় একেকটা পরিবেশ ছিল।ছিল অসংখ্য মৃত্যুকূপ।

১৯৭৫ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে সমগ্র জেলা উপজেলার মতো পানছড়ি উপজেলায়ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল তার নাম ও ঐতিহাসিক সংগঠন আওয়ামিলীগের নাম।সেই সময় পানছড়িতে গুটি কিছু মানুষ শুধু আওয়ামিলীগ করত।তাদের কাছে সবসময় একটা আতঙ্কের পরিবেশ ছিল।কখন জানি তাদের উপর হামলা করে।তৎকালীন সময় পানছড়িতে জনসাধারণের উপর অন্যায় ও অতর্কিতভাবে জুলুম ও অত্যাচার করত বিএনপি জামাত ও জাতীয় পার্টি।তাদের অশুভ রাজনীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।তৎকালীন সময় সেই বিপদ সংকুলময় মুহুর্ত্বে ১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাণী নিয়ে সমগ্র জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে আর্বিভাব হয় কিছু ছাত্রনেতার।

সেই সময়ে বাবু শরৎ কুমার ত্রিপুরা,বিজয় কুমার দেব,জয়নাথ দেব,মিলন কবির (মাষ্টার)  সহ গুটি কিছু তরুণ ছাত্রনেতাদের হাত ধরে পানছড়িতে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের প্রবেশ ঘটে।মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে  তার আদর্শের বাণী পৌঁছে দিতে থাকে সেইসব তরুণ ছাত্রনেতারা। অশুভ রাজনীতিবিদদের মরণ ছোবলের হাত থেকে বাঁচতে অনেক সময় তাদের গভীর রাতের অন্ধকারে বন জঙ্গলে রাত কাটাতে হতো।দলের কেন্দ্রীয় ডাকে এবং অনেক সময় স্ব স্ব উদ্যোগে নির্জন পরিবেশে একত্রিত হয়ে মিটিং করতে হতো।তবুও তারা থেমে যান নি।তাদের হাত ধরে এভাবে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সবকিছু। মানুষ শান্তির নীড় খুঁজে পাই আওয়ামীলীগের এই রাজনীতির সংগঠনের মধ্যে।সেই সময় পানছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন শরৎ কুমার ত্রিপুরা।এর পর পর্যাযক্রমে দায়িত্ব আসে বাবু বিজয় কুমার দেব এর হাতে।এভাবে পানছড়ির সমস্ত এলাকায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাণী প্রচার হতে থাকে।অনেক মানুষ সেইসব নোংরা রাজনীতির পথ ত্যাগ করে যোগদান করে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ আর ছাত্রলীগে ।পানছড়ির সমস্ত  ইউনিয়ন গ্রামে,গঞ্জে সমর্থক বাড়ে অকল্পনীয় ভাবে।

সেই ৯০ এর দশকের আগে ১৯৮৯ সালের দিকে দুই মেয়াদে পানছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আর্বিভাব হয়েছে আজকের বিজয় কুমার দেবের।এরপর ১৯৯৭ সালে আওয়ামিলীগ যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩-২০১১ পর্যন্ত বর্তমানেও পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তিনি ৯০ এর দশকের আগে থেকে ছাত্রলীগের তুখোড় একজন  রাজনৈতিক কর্মী থেকে আজকে একজন সফল রাজনীতিবিদ।পানছড়ির রাজনৈতিক জগতের একটি আদর্শের নাম বলে এখন সর্বত্রে বিরাজিত।

রাজনৈতিক জগতের বাইরেও হিন্দু,মুসলিম, বৌদ্ধ,খৃষ্টান তার কাছে কোন ভেদাভেদ নেই। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে মধ্যমনি হিসাবে পরিচিত রয়েছেন ওনি।

সব সম্প্রাদায়ের মানুষের বিপদে আপদে একজন বন্ধুর মতো আপনজনের মতো পাশে থেকেছেন।কারো কোন সমস্যা হলে তিনি তৎক্ষনাৎ ছুটে যেতেন এবং সেই সমস্যার সমাধান করতেন।ওনার কল্যাণে সম্পূর্ণ বিনা টাকায় গত বছরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন পানছড়ির সাওঁতাল সম্প্রদায়ের গরীব ঘরের চাঁদনি নামের একজন সাঁওতাল মেয়ে।এরকম অসংখ্য উদাহরণ ছড়িয়ে আছে পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।খাগড়াছড়ির জেলার মাননীয় সাংসদ বাবু কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার কাছে  ওনি একজন আস্থাভাজন ও স্নেহভাজন মানুষ। অত্যন্ত সাধাসিধে জীবযাপন ওনার।কোনরকম অহংকার, দাম্ভিকতা, গৌরিমা স্পর্শ করতে পারেনি ওনাকে।তাই তিনি পানছড়ির সমস্ত আওয়ামিলীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ সব নেতা কর্মী এবং সকল শ্রেণির জনসাধারণের মাঝে শ্রদ্ধার ও সম্মানের একটা বিশেষ জায়গায় অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন।

বিরোধী দলের অনেক মানুষও ওনার এমন সাদামাটা জীবনযাপন নিয়ে প্রশংসা করেন।এক সন্ধ্যায় পাইলট ফার্ম এলাকার সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেম্বার খোরশেদ আলম বলেনঃ বিজয় দা একজন অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার মানুষ।ওনি অত্যন্ত সৎ এবং ভালো মনের মানুষ।ওনার জন্য একবার আমি একটা মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা পাই।পাইলট ফার্ম এলাকায় আজ উন্নমনের ছোঁয়া লাগার পেছনে ওনার অনেক অবদান রয়েছে। পানছড়ি সকারি কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বাবু সমীর দত্ত চাকমা বলেনঃবিজয় অত্যন্ত সাধাসিধা প্রকৃতির।আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন।আমি অনেক খুশি হয়েছি সে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায়।আমি তার সাফল্য কামনা করি।

ওনার বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বাবু উজ্জ্বল চৌধুরী বলেনঃ বিজয় দা সবার কাছে একজন আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত লোক।সবাইকে ওনি ভালোবাসেন এবং বিপদে আপদে সবার পাশে থাকেন।এমন সজ্জন, নির্লোভ, আওয়ামী কর্মীকে পানছড়ির সর্বস্তরের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে বিশ্বাস করি। ওনি পেশায় একজন শিক্ষক।পানছড়ি পূজগাং মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন।ওনি এবার পানছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। বাবু বিজয় কুমার দেব এর সাথে আলাপ কালে ওনি জানায়। আসলে সবাই আমাকে খুব ভালোবাসেন।চেষ্টা করি সব সময় সবার পাশে থাকার জন্য। আমি চাই সবাই শান্তিতে থাকুক, ভালো থাকুক।আপনাদের ভালোবাসায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইশতেহার গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করার লক্ষ্য গুলো সর্বসাধারণের মাঝে পৌঁছে দিতে আমি এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি।সবাই আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন।