বাঘারপাড়ায় হাইব্রিড নেপাস সরিষার প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

0
250

নিউজ ডেক্সঃ এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস),বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)এর যৌথ উদ্যোগে হাইব্রিড নেপাস সরিষার প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে, অদ্য ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং রোজ সোমবার বিকালে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের উত্তর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে হাইব্রিড নেপাস সরিষা চাষে আগ্রহী কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ এবিএম ফজলুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডিএই, নড়াইল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ মোঃ আজগর আলী, মূখ্য-প্রশিক্ষক, এটিআই, ডিএই, ঝিনাইদহ। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডঃ অহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর প্রাক্তন কৃষি বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্লান্ট ব্রিডার ও ডঃ হারুন-আর-রশীদ, নির্বাহী পরিচালক, এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস)। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুব্রত কুমার ঘোষ, এরিয়া কোর্ডিনেটর, আস, যশোর।

মাঠ দিবসটি সফল বাস্তবায়নে আস এর এরিয়া কোর্ডিনেটর মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সুব্রত কুমার ঘোষ নিরলস ভাবে কাজ করেন। মাঠ দিবসে ২ জন প্রগতিশীল ও প্রদর্শনী কৃষক হাইব্রিড নেপাস সরিষার সর্বোচ্চ ফলন প্রাপ্তির বাস্তব কলা-কৌশল সমূহ তুলে ধরেন। দেশের তেল ও নিরাপদ খৈলের চাহিদা মেটাতে হাইব্রিড নেপাস জাতের সরিষা সর্বোচ্চ ফলন প্রাপ্তিতে উন্নত চাষ পদ্ধতি প্রচলনে এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস) চলতি ২০১৮-১৯ রবি মৌসুমে যশোর, ঝিনাইদহ, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী এবং ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলাতে মোট ৩০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছে। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড নেপাস সরিষা কৃষকদের মাঝে ইতিমধ্যে লাভজনক ফসল হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা গুরুত্ব সহকারে ও নিবিড়ভাবে চাষ করতে চায় আগ্রহী কৃষকরা।

বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর প্রাক্তন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্লান্ট ব্রিডার ডঃ অহিদুজ্জামান গত ৩০ বছর নিরলস ভাবে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী ১টি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড নেপাস সরিষার জাত (আমান সরিষা-১) উদ্ভাবন করেছেন।উদ্ভাবিত জাতটি উচ্চ ফলনশীল। ভাল ব্যবস্থাপনায় চাষ করলে বিঘা প্রতি ১১ মন (একর প্রতি ৩৩মন) বা হেক্টর প্রতি ৩.৩ টন ফলন পাওয়া যাবে। ইহা ইউরিসিক এসিড এবং গ্লুকোসিনোলেট মুক্ত। ইউরিসিক এসিড এবং গ্লুকোসিনোলেট রাষায়নিক উপাদান ২টি মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই সরিষার তেলে কোন ঝাঁঝ থাকে না (অর্থাৎ হাইড্রোজেন সালফাইড মুক্ত)। তাই হাইব্রিড নেপাস সরিষার তেল নিরাপদ ভৈজ্য তেল হিসাবে অতি উত্তম এবং ইহার গ্লুকোসিনোলেট মুক্ত খৈল মুরগীর খাবার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এই সরিষা ৮৫-৯০ দিনের ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। এই সরিষা তোলার পর বোরো ও লাভজনক সবজী, মুগ ইত্যাদি চাষ করা যায়। এই নেপাস হাইব্রিড সরিষাতে রোগের আক্রমন কম হয়। এই জাতের সরিষা বেশী পেকে গেলে ফল বা শুটি থেকে সরিষার দানা ঝরে যাওয়ার প্রবণতা আছে বিধায় গাছের শুটি ৭০-৭৫% পেকে গেলে তা কেটে ২-৩ দিন জাগ দিয়ে মাড়াই করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

আস এর নির্বাহী পরিচালক ডঃ হারুন-আর-রশীদ বলেন যে, নতুন ও নিবিড় ব্যবস্থাপনায় নূতন উদ্ভাবিত হাইব্রিড নেপাস সরিষার চাষ করলে বিঘাপতি ১১ মন সরিষা পাওয়া যায় এবং যা বিক্রি করে ২৪,০০০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, দেশের ৩-৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড নেপাস সরিষা চাষ করে এবং আধুনিক তেল মিলে উন্নত পদ্ধতিতে সরিষা ভাঙ্গিয়ে দেশের নিরাপদ ভৈজ্য সরিষার তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব।এই সরিষার গাছ ফুল আসার পূর্বপর্যন্ত চমৎকার সবজি হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়।

দেশের কৃষকদের চাহিদা ভিত্তিক আগামীতে স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল, হলুদ রং এর হাইব্রিড নেপাস সরিষার জাত উদ্ভাবন করা হবে বলে ডঃ অহিদুজ্জামান জোরালো দাবী করেন। তিনি আরও উল্লেখ্য করেন যে, আমার গবেষণা এখন এমন এক জাগায় আছে যার ভিত্তিতে চাহিদা মোতাবেক নতুন হাইব্রিড নেপাস সরিষার জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং প্রাইভেট কোম্পানীর অন্তরভূক্তির একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।