কিডনি রোগে আক্রান্ত শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী সহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকুল আবেদন

0
1573

পানছড়ির কিডনি রোগে আক্রান্ত একজন আলোকিত শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা। বাবা আমি তোমাকে হাড়াতে দেব না।তুমি আমাদের ফেলে চলে গেলে কে আমাদের দেখবে।কে আমাদের ধরে ধরে পড়া শেখাবে,কে আমাদের বকবে,কে আমাদের আদর করে রাগ ভাঙাবে।আমরা তোমাকে এইভাবে কষ্ট পেতে দেব না।তুমি ভালো হয়ে যাবে বাবা। এমনি ভাবে আহাজারি করে কান্না করছে কিডনি রোগে আক্রান্ত একজন আলোকিত শিক্ষক রিটন শীলের মেয়ে শ্রাবণী শীল।ওনার ছবি বুকে নিয়ে সারাক্ষণ কাঁদে ও ।তার কান্না ঐ এলাকার আকাশ বাতাস ভারী করে তুলেছে।সে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পানছড়ির উত্তর টিএন্ডটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুন্দর ভাবে বাস করতেন কিডনি রোগে আক্রান্ত শিক্ষক রিটন শীল।একটি সুখী সুন্দর ও সচ্ছল পরিবার ছিল তাদের।দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে ওনার সংসার। ছেলেটি এখনো ছোট।আর দশজন সাধারণ পরিবারের মত কেটে যাচ্ছে তাদের জীবন।বেশি কিছু চাওয়া ছিল না তাদের।মেয়ে এবং ছেলেকে ওনার মত একজন দেশ গড়ার কারিগর করে গড়ে তোলার একটি উজ্জ্বল স্বপ্ন ছিল রিটন শীলের মনে।কারণ শিক্ষকতা পেশাকে ওনি খুব ভালোবাসতেন।ঝড়,বাদলের দিনেও কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়া মিস করতেন না।। ব্যক্তি জীবনে তিনি অত্যন্ত ভদ্র,সদাহাস্যজ্জল, ছিমছাম ও  সত্যিকার অর্থে একজন ভাল ও সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন।সব সময় হাসি খুশিতে থাকতেন।এবং সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন।খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন রিটন চন্দ্র শীল ।লোগাং বাজারের একটি আলোকিত নাম রিটন মাষ্টার।সর্বস্তরের মানুষ ওনাকে খুব ভালোবাসতেন। সেই শিক্ষক আজ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১ মাস ধরে  চট্টগ্রাম চকবাজারের একটি হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এর ৭ নম্বর বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।দুইটি কিডনির একটি সম্পূর্ণ ডেমেজ হয়ে গেছে।আরেকটিও ৭০% ডেমেজ। অনেক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার কলকাতায় নিয়ে গিয়ে একটা কিডনি প্রতিস্থাপন  করে ওনাকে বাঁচানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন।কিন্তু একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে প্রায়  ২০ হতে ২৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আর অপারেশন হতে শুরু প্রায় ৪০/৫০ লক্ষ টাকার দরকার। ওনার পক্ষে এতো টাকা দিয়ে অপারেশন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাসপাতালে  চলে যাচ্ছে নানা ঔষুধে। এমতাবস্থায় সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনসহ সবাই।জায়গা সম্পত্তি যা আছে তা বিক্রি করেও ৫ লক্ষ টাকার অধিক পাওয়া যাবে না। পানছড়ির শিক্ষক সমাজসহ সর্বত্রে নেমে এসেছে নিদারুণ দুঃখ আর আর বেদনা।ওনাকে দেখতে চট্টগ্রামে ছুটে যাচ্ছেন অনেকে মানুষ।একসময়ের স্বাস্থ্যবান মানুষটি আজ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।এতে ভেঙ্গে পড়েছেন সবাই। তাদের পরিবার এবং আত্মীয় স্বজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সর্বস্তরের দানশীল মানুষের কাছে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির চাকমা জানাই, সহকারী শিক্ষক বাবু রিটন শীলের সুস্থতার জন্য আমরা সকল শিক্ষক সমাজের কাছে  সহযোগীতা চেয়েছি।সবাই এগিয়ে আসবে বলে কথা দিয়েছেন। উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেনঃ সকল শিক্ষক সমাজ সহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের সকল মানুষ এগিয়ে আসলে শিক্ষক রিটন শীলকে বাঁচানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করেন।তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই শিক্ষকের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।আমরা পানছড়ির সকল শিক্ষক সমাজকে অনুরোধ জানাবো মানবিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। পানছড়ি বাজার দেবালয় মন্দির কমিটির সভাপতি তপন কান্তি বৈদ্য বলেনঃ   শিক্ষক রিটন শীলকে বাঁচাতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল দানশীল ব্যক্তিকে এগিয়ে এসে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। এদিকে পানছড়ির ৩ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব নাজির হোসেন জানানঃশুনেছি ওনার কিডনি সমস্যায় ভোগছেন,একটা কিডনি  ডেমেজ হয়ে গেছে আর আরেকটারও তাও ৩০% সচল আছে।আমরা আমদের সাধ্য মত সহযোগীতার চেষ্টা করব।এই বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মুঠোফোনে যোগাযোগ কালে তার  স্ত্রী জোৎস্না শীল জানানঃবর্তমানে সহায়-সম্বলহীন এই দরিদ্র শিক্ষককে বাঁচাতে হলে অন্তত একটি কিডনি সংযোজন অত্যন্ত জরুরী। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে গিয়ে আমরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আমার স্বামীকে বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সবার সহযোগীতা কামনা করছি। আমরা প্রতিদিন চায়ের টেবিলে শত শত টাকা উড়িয়ে দেয়।একদিন না হয় আসুন একজন শিক্ষককে বাঁচাতে সেই টাকা তাদের পরিবারকে দেই।সে শিক্ষক বাঁচলে,একজন সন্তান ফিরে পাবে তার বাবাকে,একটি পরিবার ফিরে পাবে তার অভিভাবককে।একটি পরিবার আবার হাসিতে,খুশিতে ভরে উঠবে।আমরা একদিনের একটা ছোট্ট ত্যাগ স্বীকার করে কি পারি না, একটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। রাখবেন আজ আপনি সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দিলে একদিন সারা বাংলাদেশের মানুষ আপনার বিপদের সময় সাহায্যের  হাত বাড়িয়ে দেবে। যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ মোবাইল ও  বিকাশ নম্বর ০১৭০৪৪৬২৬০৬। দেশে ও দেশের বাইরে আপনারা যেখানে থাকুন আপনারা উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্য পাঠাতে পারবেন।