হাইব্রিড নেপাস সরিষার গবেষনার অগ্রগতি এবং চাষের সম্ভবনার সেমিনার

0
218

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকাঃ   এগ্রেরিয়ান রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এআরএফ) এবং এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস) এর যৌথ উদ্যোগে হাইব্রিড নেপাস সরিষার গবেষনার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে চাষের সম্ভবনা উপর এক সেমিনার অদ্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং রোজ শনিবার বিকালে ঢাকাস্থ লালমাটিয়ার বাসা নং ৫/১০বি, ব্লক-এ এআরএফ অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।উক্ত সেমিনারে ৯ জন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারক ও প্রফেসর উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন এআরএফ এর বোর্ড মেম্বার ডঃ নূরুল আলম এবং পরিচালনা করেন এআরএফ এর চেয়ারম্যান প্রফেসার ডঃ আব্দুল হামিদ। হাইব্রিড নেপাস সরিষার গবেষনার অগ্রগতির উপর উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্লান্ট ব্রিডার ডঃ অহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশে ইহার চাষের সম্ভবনার উপর উপস্থাপন করেন আস এর নির্বাহী পরিচালক ডঃ হারুন-আর-রশীদ।সভায় উপস্থিত সকলে ডঃ অহিদুজ্জামান এর উদ্ভাবিত হাইব্রিড নেপাস সরিয়া বিস্তারের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সাথে কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন।

বিশেষ করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে গবেষণামূলক কাজ করার জন্য সকলে তাগিত প্রদান করেন।উদ্ভাবিত হাইব্রিড নেপাস সরিষার জাত গুলিকে হাইব্রিড কেনোলা হিসেবে প্রচলন করার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর প্রাক্তন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্লান্ট ব্রিডার ডঃ অহিদুজ্জামান গত ৩০ বছর নিরলস ভাবে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী ২টি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড নেপাস সরিষার জাত (আমান সরিষা-১ ও ২) উদ্ভাবন করেছেন।উদ্ভাবিত জাত ২টি উচ্চ ফলনশীল। ভাল ব্যবস্থাপনায় চাষ করলে বিঘা প্রতি ১১ মন (একর প্রতি ৩৩মন) বা হেক্টর প্রতি ৩ টন ফলন পাওয়া যায়। ইহা ইউরিসিক এসিড এবং গ্লুকোসিনোলেট মুক্ত।

ইউরিসিক এসিড এবং গ্লুকোসিনোলেট রাষায়নিক উপাদান ২টি মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই সরিষার তেলে কোন ঝাঁঝ থাকে না। তাই হাইব্রিড নেপাস সরিষার তেল নিরাপদ ভৈজ্য তেল হিসাবে অতি উত্তম এবং ইহার গ্লুকোসিনোলেট মুক্ত খৈল মুরগীর খাবার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এই সরিষা ৮৫-৯০ দিনের ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। ইহা তোলার পর বোরো ও লাভজনক সবজী, মুগ ইত্যাদি চাষ করা যায়। হাইব্রিড নেপাস সরিষাতে রোগের আক্রমন কম হয়। এই জাতের সরিষা বেশী পেকে গেলে ফল বা শুটি থেকে সরিষার দানা ঝরে যাওয়ার প্রবণতা আছে বিধায় গাছের শুটি ৭০-৭৫% পেকে গেলে তা কেটে ২-৩ দিন জাগ দিয়ে মাড়াই করার পরামর্শ দেন উপস্থাপকদ্বয়।