পর্যায়ক্রমে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

0
186

 

যোগ্য দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, অনলাইনে নয় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুই হাজার প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম-৩ আসনের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রত্যাশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তকরণের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করা হবে।

সরকারী দলের আরেক সদস্য মোতাহের হোসেন নিজের এলাকা বঞ্চিত দাবি করে তার এলাকার ৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, এমপিওভূক্তির সঙ্গে ন্যায্যতার প্রশ্নটি জড়িত হয়েছে। কারণ বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে অনেক এলাকা বঞ্চিত হয়েছে। যে কারণ এমপিওভূক্তির আগে সংসদীয় আসন অনুযায়ী তালিকা করা হবে। সেক্ষেত্রে ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সরকারী দলের সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সম্পুরক প্রশ্নের জন্য দিপু মনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত আমলে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশী নম্বর পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রশ্ন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নেত্রকোণা-৩ আসনের অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরিপের মাধ্যমে পরিত্যক্ত ভবন চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয়তার বিচারে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় থেকে সময়পোযোগী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ২০১৮ সালের জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, এমনকি প্রশ্নের ফাঁসের গুজবও রটেনি। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোন ধরণের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরীখে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

২০২২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।