ভালুকার কৃষকরা সোনালী পাট চাষের ঐতিয্যে ফিরতে চায়

0
411

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ   ভালুকার কৃষকরা সোনালী পাট চাষের ঐতিয্যে ফিরতে চায়। ভালুকা উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন গ্রামের জমিতে পাট চাষ হত। বর্তমানে ভালুকাতে পাট চাষ আর দেখা যায় না। বর্তমানে কৃষকরা সরকারের পাটের নানা ব্যবহারের উপর গুরুত্বের কারণে এখন আর পাট চাষে আগ্রহি। জমিতে এখন পাট চাষে ভালুকা থেকে হারিয়ে ভালুকা ফিরে পাবে তার ঐতিয্য।

সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার মল্লিক বাড়ী বাজারে এক সময় পাটের বিশাল হাট বসত আশের পাশে প্রায় সব জায়গা থেকে মানুষ পাট নিয়ে আসত বাজারের বিক্রির জন্য আর্থিক ভাবে বেশ লাভমান হত স্থানিয় কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে চিত্র ভিন্ন হাটের দিন দেখা গেল বাজারে কোন পাট বিক্রির জন্য কেও নেই এবং কয়েকটি গোডাউন এখন ফাঁকা।

কিন্তুু কৃষকরা সরকারের পাটের নানা ব্যবহারের উপর গুরুত্বের কারণে এখন আর পাট চাষে ভালুকার কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহি। উপজেলার হবিবাড়ীর সফল শিল্প উদ্যোক্তা মো: হাজী রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, এই পাটশিল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা জুট টেক্সটাইল মিল সহজলভ্য প্রাকৃতিক তন্তুগুলোর মধ্যে পাট অন্যতম। এটি পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পাটের ব্যবহার। বাংলাদেশেন বিভিন্ন জায়গাতে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে পাট উৎপাদন হওয়ায় পাটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুরের মাদারগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা জুট টেক্সটাইল মিল।

৩ জুলাই রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। কাঁচামালের সহজলভ্যতা, দারিদ্র্যের হার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় কারখানার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। বর্তমানে দেশের রফতানি আয়ের বেশিরভাগ আসে পোশাক খাত থেকে। অর্থনীতির দিক দিয়ে দেশকে আরো উন্নত করতে হলে পাট পণ্য রফতানিতে বহুমুখীকরণ করতে হবে। মূলত, পাট পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি পুনঃব্যবহার উপযোগী, টেকসই, দূষণমুক্ত, পচনশীল, নিরাপদ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত। ফলে দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।বেসরকারি খাতকে ও পাটের বাণিজ্যিক প্রসারে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়ক বলেও জানান।এবং মো: হাজী রফিকুল ইসলাম রফিক সরকারকে অভিনন্দন জানান।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজারে পাট ও তুলা সংমিশ্রণে সাশ্রয়ী মূল্যে সুতা, কাপড় ও তৈরি পোশাক (বিশেষ করে ডেনিম প্যান্ট, জ্যাকেট, শার্ট) ইত্যাদি তৈরি ও বিক্রি করে অতিরিক্ত রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। একইসঙ্গে পোশাক শিল্পের জন্য তিন স্তরের জিএসপি সুবিধা আদায় করার লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব সংমিশ্রিত সুতা ও কাপড় উৎপাদন করা হবে।

সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি ২০২০ সাল নাগাদ বাস্তবায়ন হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ও বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ভিশন ২০২১ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহায়ক হবে আশাবাদী।