শীঘ্রই ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে

0
426

বিভিন্ন জরিপে ঢাকা মহানগরীর যে চিত্র উঠে আসছে তা আমাদের জন্য সুখকর নয়, বরং লজ্জাকর। ঢাকা এখনো রয়ে গেছে বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি হয়ে। বিশ্বসেরা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০১৩ সালের জরিপে ঢাকা ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম শহর।

২০১৪ সালে মার্সার পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম শহর হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। অসহনীয় যানজট, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, নোংরা ও দূষিত পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা, বিনোদনের ন্যূনতম সুযোগও না থাকা, পার্ক বা খোলা জায়গার অভাব, নানাবিধ বিশৃঙ্খলা—অর্থাৎ বসবাসযোগ্যতা বিচারের ৩৯টি মাপকাঠিতেই আমাদের অবস্থান নেতিবাচক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে শীঘ্রই ঢাকা সম্পূর্ণরূপে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত অনুষ্ঠানেও।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেল আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘টুয়ার্ডস গ্রেট ঢাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রমা। প্রতিবেদনে ঢাকাকে বাঁচাতে ঢাকার পরিকল্পিত পূর্বমুখী সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় এক থেকে দেড় হাজার কোটি ডলার। আলোচনায় উঠে আসে এই অর্থের জোগান পাওয়াও কোনো সমস্যা নয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকার মতো উন্নয়ন সহযোগীরা এই অর্থ জোগাতে প্রস্তুত আছে। কিন্তু কোনোভাবেই এ কাজে আর সময়ক্ষেপণ করা উচিত হবে না।

রাজধানী ঢাকায় বসবাস করা মানুষ তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু স্বাস্থ্যসম্মত ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে চায়। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা একধরনের আকাশ কুসুম কল্পনা। ঢাকা ক্রমাগতভাবে অধঃপতিত হচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন দিয়ে তা রোধ করা যাবে না।

২০১২ সালের তালিকায় জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর, ঢাকারও নিচে। পরের বছর তারা ঢাকার চেয়ে উন্নত শহর হিসেবে পরিগণিত হয়। মাঝখানে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক শহর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর। সেটিও এখন ঢাকার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাহলে ঢাকা কেন পারছে না আরো উন্নত হতে। এখানে বায়ুদূষণে মানুষের অসুস্থ হওয়া ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে এ জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে হয়। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার অলিগলিতে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি তো দূরের কথা, ছোট্ট একটি অ্যাম্বুল্যান্সও ঢুকতে পারে না।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলেও এখন জনবসতি ক্রমেই বাড়ছে এবং তা বাড়ছে একই রকম অপরিকল্পিতভাবে। কিছুদিন পরে সেখানকার পরিস্থিতিও একই দাঁড়াবে। যানজট, জলাবদ্ধতায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। যেমনটা এখন দেখা যায় ডিএনডি বাঁধ এলাকার মধ্যে।

বিশ্বব্যাংক যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে আশু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ঢাকার বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।