পানছড়িতে বৈসাবি উৎসব পালিত

0
87

 

 

মিঠুন সাহা (পানছড়ি),খাগড়াছড়ি: প্রতিবছরের মতো আবারও এলো পাহাড়ের মানুষের প্রাণের উৎসব বৈসাবি। এই দিনে সব জনগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নেমে আসে আনন্দের ঝর্ণাধারা। মানুষে মানুষে সম্প্রীতির মেলবন্ধনের প্রকৃত রুপ দেখা যায় আজকের এই বিশেষ দিনগুলোতে।

এই দিনে পাহাড়ি বাঙ্গালীর মধ্যে বিরাজ করে রাশি রাশি আনন্দ। দীর্ঘ দিনের চলমান সংঘাত, হানাহানি ভুলে পাহাড়ের মানুষ মিলেছে এই সুন্দর দিনগুলোকে বরণ করে নিতে। বর্ণাঢ্য  র‍্যালিতে র‍্যালিতে ছেঁয়ে গেছে আজকের সকালটা। এই যেন এক অন্যরকম মিতালী নিয়ে এসেছে মানুষের মাঝে। এই মিতালীর ধারা সারা বছর বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি, সম্প্রীতি, রাশি রাশি আনন্দ। এমনি চাওয়া ফুটে উঠেছে শত শত মানুষের জোড়া জোড়া চোখের মধ্যে।পাহাড়িদের প্রাণের উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বিহু ও সাংক্রান।

আজ  শুক্রবার সকাল ৬ টা হতে জেলার পানছড়ির রাবার ড্রামে (পানছড়ি যুব সমাজের) আয়োজনে পানিতে গঙ্গাদেবীর উদ্দ্যেশ্যে ফুল ভাসানোর  মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ভোরের আলো ফুটতেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দলবেঁধে ছুটছেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ। বর্ণিল সাজে মায়ের হাত ধরে ফুল হাতে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছে শিশুরাও।সকলের গন্তব্য চেঙ্গী, নদী। সেখানেই মঙ্গল কামনায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসানো শুরু হয়। পিছিয়ে ছিল না অন্যান্য সম্প্রদায়ের দর্শনার্থীরাও। তারাও এসেছিল বন্ধুদের সঙ্গে ফুলবিঝু উপভোগ করতে।

আগামী শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-ফূর্তি। বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার বাড়িতে আসা অতিথিদের পরিবেশন করা হবে।

চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক, তঞ্জঙ্গারা বিষু নামে উৎসবটি পালন করে। সমতলের লোকজনের কাছে এই উৎসবটি বৈসাবি নামে পরিচিত। তবে এ বৈসাবী শব্দটি দিয়ে পাহাড়ের শুধু তিন সম্প্রদায়ের উৎসবকে বুঝায়।এরা হলো চাকমা ত্রিপুরা ও মারমা। ফলে অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনের উৎসবের কথা বাদ পড়ে যায়। সম্প্রদায় বেঁধে পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে চলবে এই উৎসবটি।ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গ্রামে-গ্রামে, এলাকায়-এলাকায়। চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবটি উপলক্ষে থাকছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নাচ,গান ইত্যাদি।

পানছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ বাবু সমীর দত্ত চাকমা বলেন, বৈশাবি এই পাহাড়ের মানুষের প্রাণের উৎসব। এই দিনে তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে  মিলিত হয়ে আনন্দে মেতে উঠে। ভুলে যাই পুরানো সব দুঃখ দিনের কথা। এই উৎসবটি শুধু পাহাড়িদের নয়।এটি সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একটি সার্বজনীন উৎসব হিসাবে রূপায়িত হয়েছে। এটি এখন ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষে মাঝে সম্প্রীতির এক অন্যন্য মেলবন্ধন। দিনটিকে ঘিরে সবার জীবনে সুখ শান্তি বয়ে অানুক সেই প্রার্থনা করি।