পিবিআইর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নুসরাতের বাবা

0
84

 

পিবিআইর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়েছেন আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুসরাত জাহান রাফির বাবা মাওলানা একে এম মুসা। আজ শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ির প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

একে এম মুসা বলেন, ‘গত দুইদিনে পিবিআইর কর্মকাণ্ডে আমি সন্তুষ্ট। সঠিকভাবে মামলাটি পরিচালনা করায় ৮ দিন পর হলেও আসল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

নুসরাতের বাবা আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। মেয়েটা অনেকবার পানি খুঁজেছিল, আমি দিতে পারিনি। এ রকম করে চলে যাবে জানলে পানি দিতাম। সে কথা মনে হলে বুকটা কষ্টে ফেটে যায়। আমার মেয়ে অনেক সুন্দরী ছিল; আমি আদর করে ডাকতাম মুক্তা। আমি দোয়া করি পৃথিবীর আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে যেন খালি না হয়। আমার বাবা ৭০ বছর বয়সেও ইমামতি করেছে আমি ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলাম; কোনোদিন মানুষর ক্ষতি করিনি। এ ঘটনা দেশ-বিদেশে যেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কোনো অপরাধী পার পাবে না-এমন বিশ্বাস আমার আছে।’

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ সিরাজের কুপ্রস্তাব এবং শামিমের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করাই কাল হয় নুসরাত জাহান রাফির। আসামি শামিমই নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাফির ছোট ভাই রায়হান বলেন, ‘শামিম তার বোনকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। ঘরে সুন্দর বোন থাকলে এরকম উত্ত্যক্ত করে সেজন্য কিছু বিষয় উপেক্ষা করেছিলাম। আজ সেই নরপিচাশের হাতে কাল হতে হয়েছে আমার বোনকে। আমরা এদের ফাঁসি চাই।’

রাফির বান্ধবী নাবিলা জানান, রাফির এমন মৃত্যুতে সোনাগাজীর মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শিক্ষার্থীরা এখন তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও নিরপাদ ভাবতে পারছে না। মেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় এখানকার সকল অভিভাবকরারা। আগামীতে এ সব উত্তরণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে আরও দায়িত্বশীল ভ‚মিকা আরও গতিশীল করার দাবি করেছেন তিনি।