বিড়ালের মা আলেপা খাতুন

0
66

 

তখন আলেপা স্কুলে পড়েন। পথের ধারে একটি বিড়াল পড়ে থাকতে দেখেন।

সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে আসেন সেটি। অসুস্থ বিড়ালটিকে সেবা-যত্ন দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। তার পর থেকে আজ প্রায় ৪০ বছর হতে চলল। কোনো কোনো সময় তিনি কুকুর, শিয়াল, বেজি, ভেড়া, মেছোবাঘও পুষেছেন। তবে বিড়ালের জন্য তাঁর বিশেষ মায়া। বললেন, বিড়ালই বেশি ভালোবাসি। ওরা আমার কথা বুঝতে পারে।

বিড়ালের মা

এলাকার মানুষের কাছে আলেপা খাতুন বিড়ালের মা। তিনি চাটমোহর পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনে পরপর দুবার নির্বাচিত কাউন্সিলর।

কাউন্সিলর হিসেবে যে কয় টাকা সম্মানী পান, তা বিড়ালের জন্যই খরচ করেন। এখন তাঁর কাছে ৪০টি বিড়াল আছে। তার মধ্যে ছোট বাচ্চা ১০টি। যতক্ষণ পর্যন্ত বিড়ালগুলোর খাওয়া শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজে মুখে খাবার তোলেন না। দুই কামরার একটি টিনের ঘর তাঁর। একটিতে বিড়ালগুলো নিয়ে নিজে থাকেন, অন্যটিতে তাঁর একমাত্র ছেলে মহরম থাকে।

সেসব কষ্টের দিন

পঁচিশ বছর আগে স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। তখন ছেলের বয়স মাত্র এক মাস। বিড়ালগুলোকে দিয়েই দুঃখ ভুলে থাকতেন। নাম ধরে ডাকলেই ওরা কাছে চলে আসে। তাঁর সঙ্গে দুষ্টুমি করে। মাঝেমধ্যে বিড়ালের সঙ্গে বলও খেলেন। খাবার দিতে দিতে কোনো একটিকে হয়তো বলেন, ‘বাবা, আজ সারা দিন কী কী করলে? কোথায় কোথায় গেলে? তোমার ভাইকে দেখছি না। ’ আরেকটিকে হয়তো বলেন, ‘তুমি কিন্তু শরীরের দিকে নজর দিচ্ছ না। বেশি দুষ্টুমি করলে বকা খাবে। ’

কোনো কোনো রাতে ওদের খাবার খাওয়াতে রাত ১২টাও বেজে যায়।