নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় জোবায়ের

0
57

 

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজহারের অন্যতম আসামি সাইফুর রহমান মো. জোবায়েরকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।

জবানবন্দির পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন পিবিআই এর চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। এ সময় তিনি বলেন, জোবায়ের আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। সে ঘটনার দিন কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে নুসরাতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয় এবং মেসের কাঠির মাধ্যমে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় তিনি আরো বলেন, জবানবন্দিতে জোবায়ের এ হত্যার বিষয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।

এর আগে ১০ এপ্রিল জোবায়েরকে সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ তারিখে একই আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়। সে নুসরাতের সহপাঠী ছিল এবং সোনাগাজী পৌর শহরের আবুল বাশারের ছেলে।

মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে জোবায়ের কথা। শামীম বলেছেন, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেন।

এদিকে শনিবার জোবায়েরকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই এবং ঘটনায় ব্যবহারিত বোরকা উদ্ধার করা হয় খাল থেকে।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথম পত্র দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়।

পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ১০ এপ্রিল থেকে মামলাটির দায়িত্ব পায় বিপিআই। সেই থেকেই গ্রেপ্তার হতে থাকে আসামিরা। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় ২০ জন আসামি, আদালতে জবাবন্দি দিয়েছে ৭ জন।