নড়াইলে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৭৪ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

0
44

 

এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস) ও হারভেষ্টপ্লাস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৭৪ এর মাঠ দিবস অদ্য ২৪শে অক্টোবর ২০১৯ রোজ বুধবার বিকালে নড়াইল জেলার সদর উপজেলার মহারাগ বাঁশতলায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৫০ জন কৃষক ও কৃষাণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল ইসলাম উপজেলা কৃষি অফিসার, ডিএই, সদর নড়াইল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ চিন্ময় রায়, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইল। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কৃষিবিদ মোঃ মজিবর রহমান, ওএসএসএম, হারভেষ্টপ্লাস বাংলাদেশ, মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইল, চন্দনা দাস, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, ভদ্রবিলা, নড়াইল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুব্রত কুমার ঘোষ, এরিয়া কোর্ডিনেটর, আস। অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী কৃষক মোঃ শাহাজান মোল্ল্যা ব্রি ধান৭৪ এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন যে, মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। বাংলাদেশের মানুষের শরীরে রক্তে জিংকের তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে দেশে ৪৪% শিশু এবং ৫৭% অপ্রসতি ও কুমারী জিংকের ঘাটতিতে ভূগছেন।বাঙ্গালির ভাত হল প্রধান খাদ্য যা মোট ক্যালরীর চাহিদার প্রায় ৭০% পূরণ করে। কিন্তু ভাত থেকে প্রাপ্ত পুষ্ঠি উপাদানের মধ্যে জিংক এর যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। খাদ্য হিসাবে গ্রহণকৃত ভাতে জিংক এর ঘাটতির বিষয়টি উপলদ্ধি করে বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর গবেষকগণ নিরালস ভাবে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙ্গালির প্রধান খাদ্য ভাতের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রিধান৮৪ জাত গুলি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক জাত গুলি বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ এর জন্য ২০১৩-২০১৭ সালে অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি সমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পরিকল্পণা নিয়ে এগিয়ে চলছে সরকার। ব্রি ধান৭৪ গত ২০১৫ সালে সরকার বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করেছেন। জাতটি অধিক ফলনশীল এবং ভাল ব্যবস্থাপনায় হেক্টর প্রতি ৮ টনের অধিক ফলন পাওয়া যায়। পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ৯২ সেঃমিঃ হয়। গাছ মজবুত বিধায় ঢলে পড়ে না। চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা ও রং সাদা। প্রতি কেজি চালে জিংক এর পরিমান ২৪.২ মিলিগ্রাম এবং প্রোটিনের পরিমান ৮.৩%। বি ধ্রান৭৪ এর জীবনকাল ব্রি ধান২৮ এর কাছাকাছি।