দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হিরোর জীবনের গল্প

0
22

ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই::
তার চোখে আলো নেই। অথচ বাই সাইকেল চালনা, অনেক উঁচু গাছগাছালিতে চষে বেড়ানো, খেতখামারের কাজ করা, মাইকিং করা যেন কোন ব্যাপারই না তার কাছে। ভুল চিকিৎসায়  হারিয়েছে চোখের আলো। তবুও সে বোঝা নয় পরিবার-সমাজের কাছে।

হিরো নামের যুবক আজ মিরসরাইয়ের বিস্ময়। তাকে নিয়ে নিজেদের গ্রামে যেমন কৌতুহলের শেষ নেই, তেমনি আছে বুকভরা গর্বও।

মুক্তিযোদ্ধা বাবার অভাবের ঘরে ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ইসমাঈল হোসেন হিরো। ছয় বছর বয়সে হাম রোগে আক্রান্ত হলে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় দুই চোখের দৃষ্টি চিরকালের জন্য হারিয়ে যায়। অভাবের সংসারে হিরোর এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। তবুও চট্টগ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন।

সেখানে পঞ্চম শ্রেণির গণ্ডি আর পার হওয়া যায়নি। ধীরে ধীরে শুরু হয় জীবন গড়া। বিয়ে হয়, দাম্পত্য জীবনে রয়েছে দুটি সন্তান। স্ত্রী আয়শা বেগমও প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে সুখে আছেন। তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিরো নিজেকে বিস্ময় হিসেবে আবিস্কার করতে থাকেন মাত্র ১০ বছর বয়সে। একদিন গ্রামের মানুষ তাকে সাইকেল চালাতে দেখে অবাক না হয়ে পারেননি। পরে সেটি তার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকই হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, হিরো বেশ স্বাভাাবিক নিয়মে সাইকেল চালিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যেতে পারেন। খুব সহজে নিজের আত্মীয়-পরিজনদের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেন। হিরোর আছে মোবাইল ফোন। ফোনের কোন বাটন কোথায় আছে, অপশনের ভেতরের অপশন খুঁজে প্রয়োজন মেটাতে তার কারো সাহায্য লাগে না।

নারকেল, সুপারি কিংবা তাল পাড়তে লম্বা গাছে উঠতে হিরোকে সবার আগে ডাকে গ্রামের মানুষ। পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরাও তার কাছে নতুন কিছু নয়।

এতকিছুর বাইরেও তার দখল আছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু ইতিহাসে। গ্রামের মানুষ খবরের কাগজ পড়ে বা অন্যভাবে আলোচনা করলে কান পেতে শুনে থাকে হিরো। এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা প্রসঙ্গে হিরো বলে, ‘চেষ্টা করলে কোন কাজই অসাধ্য থাকে না’।

গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, ‘এলাকার সবার কাজে হিরোর জুড়ি নেই। কেউ ডাকলেই সে সহায্য করতে এগিয়ে আসে।