দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মেজবার জীবনের গল্প

0
18

ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই:
তার চোখে আলো নেই। অথচ  সুচারু ভাবে বৈদ্যুতিক কাজ করা, খেতখামারের কাজ করা কোন ব্যাপারই না তার কাছে।  জন্মগত ভাবে হারিয়েছে চোখের আলো। তবুও সে  বোঝা নয় পরিবার-সমাজের কাছে। মেজবা নামের যুবক আজ মিরসরাইয়ের বিস্ময়। তাকে নিয়ে নিজেদের গ্রামে যেমন কৌতুহলের শেষ নেই, তেমনি আছে বুকভরা গর্বও।

মিরসরাই পৌরসদরের মধ্যম মঘাদিয়া গ্রামের জামাল উল্ল্যাহর নয় সন্তানের সবার ছোট মেজবা উদ্দিন। জীবনে কখনো আলোর দেখা পায়নি। পড়াশোনা ভাগ্যে জোটেনি, তবে গ্রামের ফোরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে নিয়েছে পবিত্র কোরআন শিক্ষা। স্বাবলম্বী হওয়ার যুদ্ধে নেমে মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে শিখতে শুরু করে বৈদ্যুতিক কাজ। এখন তিনি সাবলীলভাবেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ স্থাপন করছেন মানুষের ঘরে ঘরে। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত কোন বেকায়দায় পড়তে হয়নি তাকে। এ ছাড়া সাবলীল ভাষা আর সুমধুর কণ্ঠে তার মাইকিং অন্যের মনযোগ আকর্ষণ করবেই। আচার-অনুষ্ঠান কিংবা নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকিংয়ে মেজবার কদর বেশ ভালই।

একজন স্বাভাবিক মানুষের চাইতে মেজবা কোনভাবেই কম নয় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে। একবার যার সঙ্গে কথা হয়েছে বহু বছর পরও তার কণ্ঠ গেঁথে থাকে মেজবার স্মৃতিতে। অন্যের ফোন নম্বর নিজের ফোনে সঞ্চয় করা, সঞ্চয়কৃত নাম্বারের তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় নাম্বারটি বের করা, অপশনে গিয়ে দরকারি কাজ সারা সবই হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেজবাকে দিয়ে।

মেজবা জানায়, ‘আমি ছোট বেলা থেকে কিছু করার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম আমার পরিবার বেশিদিন আমার বোঝা বইতে চাইবেন না।’ বৈদ্যুতিক কাজের ঝুঁকি প্রসঙ্গে সে জানায়, ‘আমার কাছে ঝুঁকি মনে হয় না। ইলেক্ট্রিক কাজ করতে আমার ভাল লাগে।

মেজবাকে নিয়ে এলাকাবাসীর গর্বের শেষ নেই। সে গ্রামের সকলের কাছে বেশ প্রিয়। গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মেজবা স্মৃতি শক্তি দেখে আমরা নিজেরাও মাঝে মাঝে হতবাক হয়ে পড়ি। সে মোবাইল কললিষ্ট থেকে নম্বর বের করে আমাদেরকে ফোন দেয়। এছাড়া গ্রামের দোকান-পাটে বসে নিজের মোবাইল ফোনে গান শুনে। খুব আশ্চর্যের বিষয়, মেমোরিতে থাকা গানের সেরাগুলোই বেচে বেচে শুনে সে এবং খুব ভালো গানও গাইতে পারে মেজবা।