ঈদ অর্থনীতির লেনদেন দেড় লাখ কোটি টাকা

0
28

 

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঈদকেন্দ্রিক লেনদেনও। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে মানুষের বাড়তি খরচের মনোভাব থাকে। সেই সঙ্গে ঈদ বোনাস, বেতন, বিশেষ ভাতা, রেমিট্যান্স- সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

এ ছাড়া ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা শুরু হওয়ায় এ সংক্রান্ত কেনাকাটাও ঈদের মধ্যেই করে রাখছে অনেকে। ঈদে বাড়তি চাহিদার কারণে কোম্পানিগুলোও পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। অনেকে বাড়তি ব্যয় মেটাতে আগের সঞ্চয় এ সময়ে খরচ করে।

এ কারণে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ কমে যায়, বেড়ে যায় মানুষের হাতে নগদ অর্থের হার। ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ঈদকেন্দ্রিক এ অর্থনীতির আকার দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদুল ফিতর সব থেকে বড় উৎসব। এই ঈদে মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদ, জুতা, গৃহসামগ্রীসহ চাহিদার প্রায় সব পণ্যই কিনে থাকে। এ ছাড়া বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে উপহার দেওয়ার একটি প্রবণতাও দেখা যায়।

এসব মিলে এই লেনদেন বেশি হয়। রোজা ও ঈদ উৎসবের অর্থনীতি নিয়ে ২০১৫ সালের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের এক সমীক্ষায় বলা হয়, এ সময় ইফতার ও সেহরি উৎসবে যোগ হচ্ছে চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

পোশাকের বাজারে যোগ হয় ৩২ হাজার কোটি টাকা। রমজান ও ঈদে অ্যাপায়ন বাবদ অর্থাৎ ভোগ্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ধনী মানুষের দেওয়া জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসে ৬০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

পরিবহন খাতে অতিরিক্ত খরচ হয় ৬০০ কোটি টাকা। ঈদ কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় চার হাজার কোটি টাকা। এসব খাতে নিয়মিত প্রবাহের বাইরে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে এক লাখ ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও কয়েকটি খাতের কর্মকা- অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ২০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্ভাব্য বোনাস বাবদ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, দেশব্যাপী ৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর বোনাস চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের সম্ভাব্য বোনাস দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ঈদ অর্থনীতিতে বাড়তি আসছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।