সিডিউল বিপর্যয়ে ৩ ট্রেন : পাটুরিয়ায় ভোগান্তি

0
15

 

নাড়ির টানে ফিরছে মানুষ। বাস, ট্রেন লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়। সিডিউল বিপর্যয়ে শিডিউল বিপর্যয়ে ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। গতকাল রোববার সকালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চের যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সড়কপথের যাত্রা অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তির। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট না থাকার কারণে সড়কপথের যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের কারণে বিকাল থেকে ভোগান্তির জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, গতকাল কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, তিনটি ট্রেনকে ঈদের আগে আর শিডিউলে ফেরানো সম্ভব নয়। সকালে ১১টায় মন্ত্রী কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। তিনি বলেন, সারাদেশের ৫৫টি ট্রেনের মধ্যে মাত্র তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বেশি নয়। গতকাল রোববার সকালে ধূমকেতু, সুন্দরবন, নীলসাগার এক্সপ্রেস ট্রেন বিলম্ব করেছে। এর মধ্যে নীলসাগার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করে। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রী জানান, এ অবস্থায় ট্রেনকে আগামী দুদিনের মধ্যে আর শিডিউলে ফিরিয়ে আনা যাবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেরি করা ট্রেন তিনটির বিকল্প কোচ ও ইঞ্জিন নেই। যে কারণে এই মুহূর্তে আর শিডিউল ঠিক রাখা যাবে না। তবে অন্যান্য সব ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আজ সোমবার সবচেয়ে বেশি চাপ যাবে। এদিন বাড়ি ফিরতে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্টেশনমুখী হবেন। আগামী ৫ জুন ঈদ না হলে ৪ জুন সন্ধ্যা থেকে দেওয়া হবে পরের দিনের টিকিট।

মহাসড়কে যানজট নেই
এদিকে, এবারই প্রথম মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন তিনটি সেতু উদ্বোধনের পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা ও মেঘনা গোমতী সেতু দিয়ে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে। আগে এই তিনটি সেতু পার হতে ৩/৪ ঘণ্টা বা কোনো কোনো সময় আরও বেশি সময় লাগতো। অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে। তবে এই মহাসড়কের ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে কিছু যানজট আছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও অন্যান্যবারের মতো যানজট নেই। পুলিশ জানায়, ফোর লেনের নির্মাণকাজের জন্য কয়েকটি অংশে সড়ক সরু হওয়ায় যানবাহন সেখানে ধীর গতিতে চলায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে যানজট যাতে কোনোভাবে দীর্ঘস্থায়ী না হয় সেজন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মানুষের ঢল সদরঘাটে
এদিকে, গতকাল দুপুরের পর থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সদরঘাটে। লঞ্চে জায়গা পেতে অনেকেই সকালে ছুটেছেন সদরঘাটের দিকে। যদিও সকাল থেকে ঘণ্টা দুয়েক বৈরী আবহাওয়ায় থেমে ছিল ঈদযাত্রা। পরে ঝলমলে আবহাওয়ায় সদরঘাটে যাত্রীদের ঢল নামে।

দুপুরে সদরঘাটের আগে রায়সাহেব বাজার থেকেই চোখে পড়ে নৌপথের যাত্রীদের। হাত ও কাঁধে একাধিক ব্যাগ, কারো মাথায় বস্তা, মালামাল নিয়ে স্ত্রী-সসন্তানসহ চলছেন লঞ্চের দিকে। দুপুর পর্যন্ত সদরঘাটে যাওয়ার সড়কগুলো ছিল অনেকটাই যানজটহীন, তবে ওইসব সড়কে গাড়ির চাপ ছিল। বেলা ১১টার দিকে সদরঘাটে দেখা যায়, যাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন। ঘাটে থাকা কয়েকটি লঞ্চের ডেক যাত্রীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে কিছু সময়ের পরই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে ঝড়োহাওয়া বইতে থাকে, সঙ্গে নামে বৃষ্টি। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ২ নম্বর সংকেত জারি করে আবহাওয়া বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে সদরঘাট থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।