‘পেটোত ভাত নাই আর ঈদ’

0
24

 

ভর্তুকি নেই, কোনো শস্য বীমা নেই, সরাসরি কোনো অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা নেই, ঝুঁকির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া নেই।

কৃষকের জন্য শস্যাগার নেই। সরকার কি জানত না, কৃষকের ধান রাখার জায়গা নেই? তার পরও ঠিকমতো শুকায়নি বলে তখন ধান ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন? আর এখন সরকার বলছে, ধান মাড়াই থেকে শুরু করে চাষাবাদের যাবতীয় কাজের জন্য মেশিন কিনতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। যখন মেশিন কেনার প্রণোদনা দেওয়া হবে, তখন দেখা যাবে কিন্তু এখন কৃষক ধান নিয়ে যে পরিমাণ বিপাকে পড়েছেন তার কী হবে? যে দেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ করে, যে দেশ বালিশ প্রস্তুত ও উত্তোলন খরচে বিশ্বে এক নম্বর, সেই দেশে কৃষকের ধান মজুদের জন্য স্টোর বানানোর অর্থের বরাদ্দ থাকে না কেন! নওগাঁর একজন কৃষক সেখানকার সাংবাদিককে বলেছেন, ‘আশা ছিল ধান বিক্রি করে পরিবারে সবার জন্য ঈদের মধ্যে ভালো জামাকাপড় কিনব, কিন্তু তা আর হলো না। সেচ, সার, কীটনাশকওয়ালারা টাকার জন্য আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে।’ শোধ করতে পারছেন না মহজনের ঋণ। এ অবস্থা দেশের এক কোটি কৃষক পরিবারে। ঈদ আনন্দ কৃষকের কাছে পরিণত হয়েছে ঈদ আতঙ্কে। তিন. এবার ঈদ তবে কাদের? কৃষকের এই বুক ফাটা হাহাকারের মধ্যেও ক্ষমতাবান শ্রেণির মধ্যে কিন্তু ঈদের আনন্দের কমতি দেখছি না। রূপপুর প্রকল্পের মতো আরও যেসব মেগা প্রকল্প চলছে, সেই সব প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জমকালো ঈদ উৎসব পালন করবেন আশা করি। ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র ২ শতাংশ সুদে ঋণ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা যাদের জন্য করা হয়েছে, আশা করি তারাও জমজমাট ঈদ পালন করবেন।