আমি একজন সংবাদকর্মী, কিন্তু সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়!

0
41
ছোট্ট একটি মফস্বল শহরে বড় হয়েছি আমি। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাড়াউড়া গ্রামের জেটি রোডস্থ স্বর্গীয় নেপাল দেবনাথ ও মায়া রানী দেবী’র দিত্বীয় সন্তান আমি শ্রী নকুল দেবনাথ (নান্টু)।
আমার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। তিনি সারাদিন তাঁর কৃষি কাজ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আমাকে সময় দেয়ার মতো তাঁর সময় একপ্রকার ছিল না। আর আমার মা একজন গৃহিনী। তিনি ইচ্ছা করলেও আমাকে সময় দিতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের পরিবারটা বেশি উচ্চাভিলাসী না। মোটামুটি চলেই যেত বলা যায় এক প্রকার। ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি।
এর মধ্য থেকে কতই বা শিখতে পারি।
আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের গল্প আর দশজনের মতোই সাধারণ। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ফলে ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজে কিছু করবো, বড়লোক হব। তাই আমি নিজেই ব্যবসা শুরু করি। জীবনে সব সময় দুটি জিনিস মেনে চলেছি। বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে-জানতে হয়। অবশ্য সব স্বপ্নই বাস্তবায়িত হবে এমন নয়। যদি এর ৬০ বা ৭০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয় তাহলেই মানুষের জীবন বদলে যায়। দ্বিতীয় হল ব্যবসা করতে মূলধন লাগে না— স্বপ্ন ও সাহস লাগে। আমিই এর বড় প্রমাণ। যখন ব্যবসা শুরু করি তখন সাহস, সততা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা ছাড়া আর কোন মূলধন ছিল না আমার।
কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, ২০১৪ সালে যখন আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হতে শুরু, ঠিক তখনি একজন ব্যবসায়ী আমার চেয়ে ক্ষুদ্র মানুষের সঙ্গে মিশে যাই আর শুরু করি পার্টনারশিপ ব্যবসা। আর সেই পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরুতেই কাল হয়ে দাঁড়ালো আমার জন্য। আমার চেয়ে ক্ষুদ্র মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে আমি ভুলেই গিয়েছে যে আমার চেয়ে ক্ষুদ্র মানুষের সঙ্গে, মিশলে বড় হওয়ার আকাঙ্খা জন্মাবে না, লক্ষ্যও হবে নিন্মমুখী। এখন বুঝতে পারছি ব্যবসার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ মানুষের সাহচর্য। আর সে সাহচর্য হতে হবে বড় মাপের মানুষের, সুসঙ্গের। ব্যক্তিত্ব নির্ণয়েও এটি অপরিহার্য। সুতরাং ব্যবসায় ভালো করতে প্রয়োজন গুরুত্বপুর্ণ দুটি বিষয় অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা।
আর আমি নিজেও একপ্রকার স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতাম। তাই আমার কাজে হস্তক্ষেপ করার মতো তেমন কেউ ছিল না। আর বাজারে আমার এক বন্ধুর দোকানে গিয়ে পত্রিকা পড়তাম। একসময় নিজে একটা পত্রিকা রাখতে শুরু করলাম।
২০১৪ সাল থেকে আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ২০১৫ সালের জুন মাসে আমার এক শুভাকাঙ্খী পংকজ কুমার নাগ, বলল তুমি ফেসবুকে অনেক ভালো স্ট্যাটাস দেও, তোমার স্ট্যাটাস দেখে খুব ভালো লাগে এবং আমি তোমার প্রতিটি স্ট্যাটাস পড়ি, তুমি ইচ্ছে করলে একজন সংবাদকর্মী হিসেবেও কাজ করতে পারো ! তার কথা শুনে চেষ্টা করতে শুরু করি।
পরে কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাই ব্রেকিংনিউজ বিডি ডটকম, আরো কিছুদিন পর  নির্ভীক সংবাদ ও প্রভাতের ডাক, অনলাইন পত্রিকায় শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে লেখার সুযোগ হয়। ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় দৈনিক খোলা চিঠি পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়।
২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রভাতের ডাক প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পত্র পেয়েছি। ২০১৭ সালের  ২২শে জানুয়ারি রোববার বিকাল ৩ ঘটিকায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের হল রুমে প্রভাতের ডাক আয়োজিত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা সভা ও প্রভাতের ডাকের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠান শেষে সম্প্রতি প্রভাতের ডাকের সম্পাদক মিশুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক নিয়োগ পত্রের মাধ্যমে আমাকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়।
এবং পাশাপাশি স্থানীয় শ্রীমঙ্গলের সাপ্তাহিক শ্রীভূমি, সাপ্তাহিক শ্রীমঙ্গলেরচিঠি, সাপ্তাহিক পরিক্রমা, সাপ্তাহিক জয়বার্তা ও সাপ্তাহিক চায়েরদেশ পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়।
সব কিছুর পাশাপাশি ছিল নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মেসার্স কালাচাঁদ ষ্টোর, নতুন বাজার, ভানুগাছ রোড রেলগেইট, নতুন বাজার দক্ষিণ রোড ও মেসার্স কালাচাঁদ পান আড়ৎ, নতুন বাজার দক্ষিণ রোড, শ্রীমঙ্গল। এদিকে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল নির্বাচিত হই। সোনার বাংলা, এইচ এ মার্কেট ও নতুন বাজার দক্ষিণ রোড ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনে। দপ্তর সম্পাদক পদে  আমি পেয়েছি ১৮০ ভোট ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১৪০ ভোট। জীবনের প্রথম নির্বাচনে আমি দপ্তর সম্পাদক পদে ৪০ ভোট বেশী পেয়ে বিজয় লাভ করি।
পরে ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার দপ্তর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই। এবং ২০১৮ সালে সার্বজনীন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই। অত্র পরিষদের সম্মানিত সভাপতি এবং আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, শ্রী সনজয় রায় রাজু, দাদার সহযোগিতায় এবং ভালোবাসায়।
এদিকে ২০১৮ সালে বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হই। এছাড়াও শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, শ্রীশ্রী রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দির ও রাধামাধব জিউর আখড়া সহ শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পূজা/ উৎসব পরিচালনা পরিষদের সাথে জরিত আছি।
আমি মানুষ হিসেবে অনেক ক্ষুদ্র ও সাধারণ একজন। শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ কামাল হোসেন, ও কার্যকরী সদস্য অজয় সিং, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদের প্রচার সম্পাদক উত্তম কুমার দাস পিজুস সহ আমার প্রিয় স্বজনরা, এই সাধারণ মানুষটিকে তাদের অসাধারণ ভালবাসা দিয়ে ঋণী করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিছুকিছু ভালবাসার প্রতিদান হিসাবে ধন্যবাদ শব্দটা অনেক ছোট। এই ভালবাসার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব না, ভালবাসার ঋণ নিয়ে আমি ঘুরে বেড়ায় যান্ত্রিক এই শহরে আরও ঋণী হওয়ার অভিপ্রায়ে….
কারন আমার জীবনে প্রথমবারের মতো ২৯তম শুভ জন্মদিন পালিত হয় ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১০ ঘটিকার সময় শহরের তরাজ ম্যানশন এর কামাল এন্টার প্রাইজে, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ কামাল হোসেন ভাইয়ের অফিসে, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে ও ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য অজয় সিং এর সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
আমি একজন সংবাদকর্মী!
কিন্তু আমি আজও আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি। তাই সারাদিন সারা জেলাতে ঘুরে ঘুরে নিউজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আমার এলাকা থেকেই ছোট ছোট খবর পাঠাই। আমি আমার প্রভাতের ডাক পত্রিকার সম্পাদক মিশুক হোসেন’কে বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করি। তিনিও আমাকে বাস্তবতা বোঝান। আমি আমার এলাকার ছোট ছোট খবর পাঠাই। তাতেও বাধে বিপত্তি। প্রায় মাসে খেতে হয় হুমকি।
আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই শিক্ষণীয়!
একজন মানুষ পরশ পাথরের মতন আমার জীবনকে পরিবর্তন করেছেন। তাকে ভুলি কি করে? পরিচয় টা ফেসবুকে ছিলো ২০১৬ সালের নবেম্বরে কিন্তু ভালবাসা টা সত্যিকারের ছিলো। যে আমার দিদিভাই। আমার রক্তের সম্পর্ক না হয়েও তিনি আমার রক্তের সম্পর্কের চেয়ে বেশি আপন। প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একজন বেস্ট ফ্রেন্ড থাকে, যাকে সে কখনো হারাতে চায় না।
বড় বোন (দিদিভাই) অভিভাবক হিসেবে তার নির্দেষনা, পরামর্শ ও শাসন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা। একজন মানুষ কতটা বিনয়ী ও মার্জিত হতে পারে তা দিদিভাইয়ের পাশে না থাকলে কখনো জানা হতোনা। যে আমাকে ফেসবুক মেসেজে/ ফোনে/ সরাসরি দাদাভাই ছাড়া কখনো ডাকেনি। সবসময় বড় দাদার মতন কথা বলে। কতযে দুষ্টুমি করি। মিষ্টি, সুখি একটি মেয়ে। দিদিভাই: সদা হাস্যময়ী। তাঁর মার্জিত আচরণ শ্রদ্ধা জাগায়। খুব সুন্দর করে কথা বলে দিদিভাই।
আর আমি মনে করি প্রকৃত আদর্শ তো সেই ছেলের মধ্যেই আছে, যে একজন অপরিচিতা মেয়েকে নিজের বোনের মতো সম্মান দিতে জানে। সম্পর্কে সম্মান থাকতে হয়, শুদ্ধতা থাকতে হয়। যেই সম্পর্কে সম্মান নেই সেই সম্পর্ক হারিয়ে যাবে। সম্পর্ক যদি ভাবনার সাথে মিশে যায় তাহলে তা ভাঙ্গা মুশকিল। আর সম্পর্ক যদি স্বার্থের সাথে মিশে যায় তাহলে তা টিকিয়ে রাখা মুশকিল।
প্রিয় সন্মানীত পাঠক ভাই ও বোনেরা আমার, আজ আমি একটি মোবাইলের সাহায্যে 4G ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, আগামিকাল আর যদি এই 4G বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারি? তাই আমি আমার ব্যাক্তিগত তথ্য সঠিক ভাবেই এখানে উপস্থাপন করলাম। আমি কালো কিন্তু সবাই আমাকে ভালবাসে” যেমন,, আমার মা, আমার ভাই বোন, সবাই আমাকে অনেক ভালবাসে। কিন্তু কোনো মেয়ের ভালবাসা এখনো পাইনি. তবে আমার কোনো দুঃখ নাই। আমার পরিবারতো আমাকে ভালবাসে। আমি আমার মত করে অন্যকে ভাবতে ভালোবাসি, কম কথা বলতে ভালোবাসি।
যখন যা ইচ্ছে তা নিয়ে লিখতে ভালোবাসি এভাবে আরো অনেক কিছু। নিজের সম্পর্কে খুব পরিপাটি করে বলার মত আমার তেমন কিছু নেই। আমি তো আমিই। আমি কারো মত না। কেউ আমার মত না। আমার মত কেউ কখনোও ছিলনা। কখনোও কেউ থাকবেও না। আমি শুধুই আমার মত। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে থেমে যাই:একদম সাদাসিদে মানুষ।
একটুতেই গলে যাই । অংকে কাঁচা জীবনের হিসাব মিলাতে পারি না। পৃথিবীটাকে চিনতে বা জানতে ভূগোল নিয়ে পড়ে থাকি, দিনের বেলায় চাঁদ দেখতে ইচ্ছে হয়। মাঝে মাঝে জীবনটাকে একটা ছোট মোমবাতির মত লাগে জ্বলতে জ্বলতে নিভে যায়। একটা ছেলে যখন নতুন একটা শার্ট কিনার কথা চিন্তা করে, আমি তখন নতুন একটা গল্পের বইয়ের খোঁজ করি।
আমি স্টাইল করে দাড়ি রাখতে পারি না তবে চোঁখে কালো একটা চশমা পড়তে জানি। ম্যাচ করে গেঞ্জি পড়তে পারিনা, তবে হাত ভর্তি রঙবেরঙ এর আংটি পরতে পারি। সাজতে পারিনা, তবে মুখে একটু ফ্রেয়াণ্ডলাভলী দিতে পারি। আমি অসাধারন কেউ হতে গিয়ে খুব সাধারন হয়ে যাই।
আমি আমার মাঝে আমাকে খুঁজে মরি। হাজারের মধ্যে অদ্বিতীয়া হতে চাইনি বরং অদ্বিতীয়া হয়ে হাজারের মাঝে হারিয়ে যেতে চেয়েছি। আমি চাঁদের দিকে চেয়েছি চাঁদের সুন্দর্য্য খোঁজার জন্য নয়, বরং অন্ধকারের গভীরতা যাচাই করার জন্য। আমি তো শুধু তাই চেয়েছি যা আর কেউ কখনো চায়নি। রাত না হতেই ঘুমাতে পারি আবার সারারাত জেগে রাত পাহারাও দিতে পারি। কাউকে অবাক করে দেয়ার থেকে নিজে অবাক হতে বেশি ভালো লাগে। সারাদিনের ক্লান্ততা এক নিমিষে উড়িয়ে দিতে পারার মত ক্ষমতা এর খুব ভালোভাবে আয়ত্ব করা আছে।
প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা, এটা কোন ইতিহাস নয়, কোন গল্পও নয়, এটা শুধুই আমার একান্ত ব্যাক্তিগত জীবন কাহিনী। তবে আমার মনে হয় অনেক ভাই ও বোনেরা আমার অসহায় জীবনের কাহিনীটা পড়ার পর আমাকে ঘৃণা করবেন। আর ঘৃণা করার কারনটা হলো, আমি গরীব, অসহায়, অল্পশিক্ষিত তাই। যাই হোক ঘৃণার পাত্র হলে হলাম দুঃখ নেই, তবু আমার জীবনের সত্য ঘটনাটা তো লিখতে পারলাম! পরিশেষে অনুরোধ করে বলবো যে আমাকে ঘৃণা করবেন না, আমিও একজন মানুষ। সবার শুভ কামনায় আমি শ্রী নকুল দেবনাথ (নান্টু)।
নকুল দেবনাথ (নান্টু), মৌলভীবাজার