আকাশপথেও যাত্রীর চাপ

0
7

 

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছিল আকাশপথেও। একই সঙ্গে ঈদের লম্বা ছুটিতে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে অবকাশ যাপনে পাড়ি দিয়েছেন দেশের অসংখ্য মানুষ। যাত্রীদের চাহিদা বাড়ায় সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান টিকিটের দাম বেড়ে গেছে। এ দিকে, যাত্রীর চাপ সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ রুটে এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট বাড়িয়েছে।

এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, এবার ঈদে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশাল রুটে চলছে ৭৭টি বাড়তি ফ্লাইট। এর মধ্যে নভোএয়ার অতিরিক্ত ২৫টি, ইউএস-বাংলা ৫০টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দু’টি ফ্লাইট বাড়তি পরিচালনা করছে। রিজেন্টের উড়োজাহাজ শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চলাচল করে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গ্রীষ্মকালীন শিডিউলে গত মাস থেকেই অভ্যন্তরীণ রুটে সপ্তাহে ৩০টি ফ্লাইট বাড়িয়েছে। বিমান ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে সপ্তাহে সাতটি থেকে ফ্লাইট বাড়িয়ে ১৪টি, রাজশাহীতে চারটি থেকে সাতটি, যশোরে সাতটি থেকে ১২টি, চট্টগ্রামে ২৮টি থেকে ৩৫টি, সিলেটে ২৩টি থেকে ২৮টি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে তিনটি থেকে পাঁচটি, ঢাকা-কক্সবাজারে ১৪টি, বরিশালে চারটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি করেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাড়ানোর পরও আকাশপথে এবার ভাড়া বেশি। ঈদযাত্রায় ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে যাত্রীদের দুই হাজার ৭০০ টাকার ভাড়া (ওয়ানওয়ে) গুনতে হয়েছে সাত হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে যশোর রুটের দুই হাজার ৫০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে সাত হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে তিন হাজার টাকার ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ছয় হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা-রাজশাহী রুটের টিকিট বিক্রি হয়েছে সাড়ে আট হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রামে তিন হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা রাখা হয়েছে টিকিটপ্রতি।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, যাত্রীদের জন্য আমাদের গ্রীষ্মকালীন শিডিউল, ঈদসহ অভ্যন্তরীণ রুটে ৩২টি ফ্লাইট বাড়ানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার চাপ সামাল দিতে আমরা দাম্মাম, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর রুটে গত ৩ জুন থেকে একটি করে ফ্লাইট বাড়িয়েছি। এ ছাড়া ঢাকা থেকে যশোর ও বরিশাল রুটেও একটি করে ফ্লাইট বাড়ানো হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাকিল মেরাজ বলেন, ঈদে ভাড়া বেড়েছে, এটা নির্ভর করে বাজারের ওপর। এয়ারলাইন্সের সিট এমনিতেই সীমিত। যারা উড়োজাহাজে যাতায়াত করেন তারা সাধারণত তিন-চার মাস আগেই ট্রাভেল প্ল্যান করেন এবং অনেকেই টিকিট কেটেও রাখেন।