বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় ধান লাগিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

0
23

 

বৃষ্টির ৫ দিন পরেও রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ করলেন স্থানীয়রা । ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর রাস্তার আড়াই কিলোমিটার কাঁচা থাকায় রাস্তার এই বেহাল দশা হয়। সামান্য বৃষ্টিতে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ায় ধানের চারা লাগাতে বাধ্য হন তারা।
শুক্রবার সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পটুয়া-জামালপুর রাস্তার পাইকপাড়া গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপন করা হয়।
সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপর রাস্তার আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে ২ কিলোমিটার রহিমানপুর ইউনিয়ন ও বাকিটা জামালপুর ইউনিয়নের। রহিমানপুরের শেষ ও জামালপুরের শুরু হওয়ায় মাঝে পাইকপাড়া গ্রামটি অবহেলায়। ভোটের সময় ভোট আর পরে তেমন খবর নেওয়ার সময় পায়না জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ এলাকাবাসির।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ, জাকির, সাদ্দাম বলেন, র্দীঘদিন থেকে দেখে আসছি রাস্তাটি শুধু মাপযোগ হচ্ছে পাঁকার কোন খবর নাই। রাস্তাটি পাঁকা হওয়া খুব জরুরি। ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কারণ জনপ্রতিনিধিদের বলে বলে আর বলতে পারছি না। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বার বার বলেছি তিনি বলেছেন হবে হবে।
স্থানীয়দের দাবী ওই এলাকায় আওয়ামীলীগের ভোটার থাকলেও কোন নেতা না থাকায় রাস্তাটি দাবী সঠিক জায়গাতে না যাওয়ায় পাঁকা হচ্ছে না। ফলে এলাবাসির দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগি হওয়ায় বিশেষ করে বিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীরা পরেন বিপাকে। কারণ ঐতিহ্যবাহি জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর একমাত্র যাওয়া-আসার রাস্তা এটি।
পাইকপাড়া গ্রামের জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীবন, শাম্মি, খেলাফত, রহমান জানায় বৃষ্টি হলে ওই রাস্তা দিয়ে ৩-৪ যাওয়া যায় না। তার পরেও রাস্তা বাদ দিয়ে অন্যের বাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় অন্যের গালাগালিও খেতে হয়।

জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ও অভিভাবকদের স্থানীয় বড় বাজার শিবগঞ্জে যাওয়ার প্রধান সড়ক পটুয়া-জামারপুর। এখনও বর্ষা শুরু হয়নি তাতেই এই অবস্থা। দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে হচ্ছে আশা করি এই রাস্তাটি পাঁকা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রæত সীদ্ধান্ত নিবেন।
রহিমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু বলেন, প্রতি বছর ট্রলিতে করে ইট ভাটার গুড়া ইট রাস্তাটিতে দেওয়া হয়। তার পরেও কিছুদিন পরপর রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ হয়। পাঁকা রাস্তা না হওয়া পর্যন্ত এলাবাসির দূর্ভোগ কমবে না।
জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধূরী বলেন, রাস্তার এক পাশে জামালপুর আরেক পাশে রহিমানপুর তার পরেও ৪০ দিনের কর্মসূচীর লোকদের পাঠানো হয়েছিল পাশে মাটি না পাওয়ায় জামালপুরের খারাপ অংশ মেরামত সম্ভব হয়নি।

পাইকপাড়া গ্রামের আইনুল হক বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ঠাকুরগাঁওতে অনেক এলাকার রাস্তা পাকা হয়েছে যে গুলো রাস্তায় মানুষ চলাচল করে না। অথচ পটুয়া-পাইকপাড়া-জামালপুরের রাস্তা জনবহুল হওয়া সত্তেও পাঁকা হচ্ছে না। আমরা চাই রাস্তাটি দ্রæত পাকা হোক সাধারন মানুষের দূভোগ কমুক।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলজিইডি‘র এক প্রকৌশলী বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় যে কয়টি রাস্তা পাঁকা হওয়া বাকি আছে তার মধ্যে পটুয়া-জামালপুর রাস্তাটি উল্লেখ্য যোগ্য তার পরেও কেন পাঁকা হচ্ছে না সেটা বলতে পারছি না।