বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার দশ (১০) দফা

0
1321

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে এবং জাতির সকল সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করে প্রজন্ম থেকে প্রজম্মে ছড়িয়ে দিতে এবং স্বদেশপ্রীতিতে ও দেশপ্রেমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে আমার ১০ দফা দাবী আপনার কাছে(মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) তুলে ধরছি এবং এই দাবীগুলোকে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের জোড় প্রস্তাব রাখছি ।

০১) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রজম্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে জাতির পিতার একটা ছবি ব্যাচ আকারে বুকের ডান পাশে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিধান করতে হবে।

পর্ব ০১ এর প্রাসঙ্গিক যুক্তিসহ বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো এই বাংলাদেশ নামটি উচ্চারণ করতে গেলে সর্বপ্রথম যার নামটি আসে,যার জন্ম না হলে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না।যার নেতৃত্বে সেই দিন সাত কোটি দিশেহারা বাঙালী আলোর দিশা পেয়েছিল।

তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহান নেতার আবির্ভাবের কারণে বাংলাদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করল।যে মহান মানুষটার কারণে আমরা স্বাধীনতার সাধ উপভোগ করতে পারছি। স্বাধীন ভাবে বাঁচতে পারছি।স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারছি।যিনি আমাদের একটি অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে নিয়ে আসলেন। ওনাকে যদি আমরা সব সময় স্মরণে না রাখি। তাহলে সেটা হবে ওনার জন্য,জাতির জন্য খুব লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক।

আমার প্রশ্ন হলো ওনাকে আমরা কেন বিশেষ দিনে স্মরণ করব ?? ওনাকে স্মরণে রাখতে হবে সব সময়।ওনাকে স্মরণে রাখার মাধ্যমে এই বাংলাদেশে একদিন লক্ষ লক্ষ শেখ মুজিবের জন্ম হবে।ওনার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদেরকে পথ চলতে হবে প্রতিনিয়ত।কোন বিশেষ দিনে নয়।তাই এই ক্ষেত্রে আমার যুক্তিগুলো আপনার(মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) মাধ্যমে সাড়া বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই বাংলার সকল প্রজন্ম-দের উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি ব্যাচ আকারে বাংলাদেশের সকল শিক্ষক,শিক্ষার্থী, সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,সকল সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীদের বুকের ডান পাশে পরিধান করতে হবে সব সময়ের জন্য।এবং বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শপথ বাক্যের মধ্যে জাতির পিতার নাম যুক্ত করতে হবে।এবং সকল শিক্ষা সংস্করণের মধ্যে প্রথম পাতায় জাতির পিতার ছবি ছাপাতে হবে।

এই উদ্যোগগুলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সব সময় স্মরণে রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তাই আমি সকল উদ্যোগকে প্রাসঙ্গিক যুক্তি দ্বারা আপনার (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) কাছে তুলে ধরছি।এবং উদ্যোগ গুলোকে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের জোড় প্রস্তাব রাখছি।

পর্ব ০১ এর দাবী নিয়ে যুক্তি

(ক) কেন বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যাচ আকারে বুকে ধারণ করতে হবে?? আমি সর্বপ্রথম শুরু করব শিশুকে দিয়ে।কারণ সকল শিশুর মাঝে শিশুর পিতা ঘুমিয়ে থাকে।তাই ঘুমিয়ে থাকা শিশুর পিতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।তবেই প্রজম্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর নাম।
১)বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে ও কোমল মতি শিশুর মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রেম ভালোবাসা জাগ্রত করতে এই ব্যাচ শিশু মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার ফুল ফুটাবে।
২) শিশু যখন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তত হবে এবং যখন বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ বুকে ধারণ করবে। তখন শিশু একটু একটু করে কৌতূহলী হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে।
৩) শিশু যখন এই ব্যাচ বুকে নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হবে,তখন তার মধ্যে আরো অনেক কৌতূহল জাগ্রত হবে,আর সেই কৌতূহল থেকে শিশু অসীম আগ্রহ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানবে ।
৪) তাছাড়া শিশু যখন বিদ্যালয় থেকে জানবে এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর সাহসী ভুমিকার কথা।তখন বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যাচ আকারে বুকে রাখাটা তাকে অনেক অনেক উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহীত করবে।তার ছোট মনে আনন্দের খোরাক হবে বঙ্গবন্ধু।
৫) যখন শিশু আরো জানবে এই বাঙ্গালি জাতির মুক্তির জন্য,তিনি কতশত রাত জেলখানার কুঠরিতে কাটিয়েছেন।জেল খানার কুঠরি থেকেও লড়াই করেছেন অনবরত ভাবে।তখন এই ব্যাচ শিশু মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৬)যখন শিশু দেখবে এই ব্যাচ তাদের সকল শিক্ষকরাও পরিধান করেছে।তখন শিশুর মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসীম শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেবে।
৭) সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে শিশু স্বপ্ন দেখবে।আর সেই স্বপ্ন জাগাতে অসামান্য ভূমিকা রাখবে এই ব্যাচ।
৮) এই ব্যাচ বঙ্গবন্ধুরর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে শিশুমনে স্বপ্ন জাগাবে।
৯) এই ব্যাচ শিশুকে শেখাবে ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
১০) এই ব্যাচ শিশুদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার নতুন নতুন পথ দেখাবে।
১১) এই ব্যাচ শিশুর মনে দেশপ্রেমে ও মানবপ্রেমের জন্ম দেবে।
১২) এই ব্যাচ শিশুকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। যে সাহসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন সাত কোটি দিশারা বাঙালিকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল। সে সাহসে সাহসী হতে শিশুকে অনুপ্রেরণা যোগাবে এই ব্যাচ।
১৩) এই ব্যাচ শিশুকে দূরদৃষ্টি সম্পূর্ণ করে তুলবে।
১৪) এই ব্যাচ শিশুকে মুক্তি যুদ্ধের চেতনাকে বুকে লালন করার উদ্দীপনা যোগাবে।
১৫) শিশু যখন বড় হয়ে সম্পূর্ণরুপে বুঝতে শিখবে তখন বঙ্গবন্ধুর ছবি বুকে রাখাটা তাকে গর্ভে ভরিয়ে তুলবে।
১৬) এই ব্যাচ বুকে ধারণ করার মাধ্যমে একদিন এ বাংলায় হাজার হাজার শেখ মুজিবের জন্ম হবে। এতে কোন ভুল নেই৭
১৭) এককথায় এই ব্যাচ শিশুকে সবসময় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
(খ) কেন বাংলাদেশের সকল শিক্ষকদেরও বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ বুকে ধারণ করতে হবে???
১) শিশু বা শিক্ষার্থীরা অনুকরণ প্রিয়।তারা দেখাদেখিতেও অনেক কিছু শেখে এবং বিশ্বাস করে। যখন শিশুরা দেখবে বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ তাদের সকল শিক্ষকরাও গভীর শ্রদ্ধার সাথে পরিধান করেছে। তখন সকল শিশুদের বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ বুকে পরিধান করাটা তাদেরকে অনেক অনেক উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করবে এবং তাদের হৃদয়কে গভীর শ্রদ্ধায় ভরিয়ে তুলবে।আর তাছাড়া বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ সবার ঊর্ধ্বে। বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ বুকে ধারণ করে,ওনার আদর্শকে বুকে লালন করে,ওনাকে স্মরণে রাখাটা সকল শিক্ষকদেরও নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
২) শিশু যখন একদিন বড় হয়ে শিক্ষক হবে,তখন বঙ্গবন্ধুর এই ছবি বুকে নিয়ে গর্ভের সহিত তার সকল প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস তুলে ধরবে। তাই শিশুদের মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সকল শিক্ষকদেরও শ্রদ্ধার সহিত বঙ্গবন্ধুর এই ব্যাচ বুকে ধারণ করতে হবে।