ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের হার । সেমিফাইনাল কঠিন হয়ে গেলো টাইগারদের

0
20

শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরির সুবাদে ভারতকে ৩১ রানে হরায় ইয়োইন মরগানের দল। এই জয়ে আট ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এলো ইংলিশরা। পক্ষান্তরে এ ম্যাচ হারলেও এক ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই থাকলো ভারত। একই সাথে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দশ দলকেই পরাজয়ের স্বাদ পেতে হলো। অর্থাৎ কোন দলই এখন আর অপরাজিত নেই।
জয়ের জন্য ভারতের সামনে ৩৩৮ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথমেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। দলীয় ৮ রানে ওপেনার লোকেশ রাহুলকে বিদায় করে দলকে শুরুতেই সাফল্য এনে দেন ওকস। নিজের বলে ওকস নিজেই ক্যাচ ধরে রানের খাতা খোলার আগেই রাহুণকে বিদায় করেন। দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি জুটি করে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাঙ্গার আগেই ভারত পৌঁছে যায় ১৪৫ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ১৩৭ রান। বিরাট কোহলির বিদায়ে ভাঙ্গে এই সফল জুটি। লিয়াম প্লানকেট এর বলে আউট হওয়ার আগে কোহলি করেন ৬৬ রান। ৭৬ বলে ৭ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। এই ম্যাচে ফিফটি তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে রেকর্ড করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টানা পাঁচ ম্যাচে অর্ধশতক করে বিশ্বকাপে স্টিভেন স্মিথের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। ব্যাট করতে নেমে ঋষভ পন্থ রোহিত শর্মাকে ভালোই সার্পোট দেন। ফলে দলকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি রোহিত শর্মা সেঞ্চুরিও তুলে নেন। তবে সেঞ্চুরি করে বেশি সময় টিকতে পারেননি শর্মা। দলীয় ১৯৮ রানে ওকসের বলে আউট হন রোহিত। আউট হওয়ার আগে রোহিত সেঞ্চুরিসহ করেন ১০২ রান। ১০৯ বলে ১৫ চারে সাজানো ছিল রোহিতের ইনিংসটি। এবারে বিশ্বকাপে এটি রোহিতের তৃতীয় সেঞ্চুরি। ফলে চলতি আসরে সেঞ্চুরি সংখ্যায় রোহিত ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব, উলিয়ামসন, রুট, ফিঞ্চ ও ওয়ার্নারকে। দলীয় ২২৬ রানে ভারত হারায় পন্থ এর উইকেট। প্লানকেটের বলে উডকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে পান্থ ২৯ বলে করেন ৩২ রান। এরপর হার্ডিক পান্ডিয়া- ধোনি জুটি করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করলেও রান রেটটা বাড়াতে পারেনি। দলীয় ১৬৭ রানে প্লানকেটই ফিরান পান্ডিয়াকে। আউট হওয়ার আগে পান্ডিয়া ৩৩ বলে করেন ৪৫ রান। ধোনি আর যাদব মিলে চেষ্টা করেও দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। কারন জয়ের জন্য রান রেটটা ছিল অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত ভারত ৫ উইকেটে করে ৩০৫ রান। ধোনি ৪২ রানে আর যাদব ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে প্লানকেট তিনটি আর ওকস নেন দুটি উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে করে ৩৩৭ রান। ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো ১৬০ রানের জুটি গড়ে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। জেসন রয় ফিফটি করে আউট হলেও সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছেড়েছেন বেয়ারস্টো। দলীয় ১৬০ রানে জেসন রয়ের বিধায়ে ইংল্যান্ড হারায় প্রথম উইকেট।
কুলদীপ যাদবের বলে আউট হওয়ার আগে জেসন করেন ৬৬ রান। ৫৭ বলে ৭ চার আর ২ ছক্কায় ১৬তম হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজান রয়। তার বিদায়ের পরও রানের চাকা ঠিকই সচল রাখেন বেয়ারস্টো। জো রুটকে রুটকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই দলকে নিয়ে যায় দু’শত রানের কোটায়। দলীয় ২০৫ রানে বেয়ারস্টোর বিদায়ে ভাঙ্গে এ জুটি। মোহাম্মদ সামির বলে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ভাঙ্গে ৪৫ রানের জুটি। তবে আউট হওয়ার আগেই বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন বেয়ারস্টো। হওয়ার আগে ১০৯ বলে ১০ বাউন্ডারি ও চার ওভার বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরিসহ করেন ১১১ রান। । এরপর ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ইয়োইন মরগান মাত্র ১ রান করে শামির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন । ফলে ২০৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে বেন স্টেকস ও রুট মিলে ৭০ রানের পার্টনারশীপ গড়ে দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায়। দলীয় ২৭৭ রানে রুট এর বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রুটকে হার্ডিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ বানিয়ে নিজের তৃতীয় শিকার বানান সামি। আউট হওয়ার আগে ৫২ বলে ২ চারে ৪৪ রান করেন রুট। রুটের বিদায়ে ব্যাট হাতে নামা জস বাটলার ২০ রান করা কট এন্ড বোল্ড হয়ে সামির চতুর্থ শিকাওে পরিনত হন। তবে এর আগেই ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় তিনশ’ রানের কোটায়। ক্রিস ওকসকে ১ রানে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেটের কোটা পূরণ করেন শামি। নিজের প্রথম দুই ম্যাচে টানা ৪ উইকেট নেওয়া শামি এবার ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার নেন এক ইনিংসে ৫ উইকেট। তবে দলকে এগিয়ে নিতে টিকে থেকে স্টোকস ব্যাট চালিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দলীয় ৩৩৬ রানে নিয়ে আউট হন স্টোকস। জসপ্রিত বুমরাহ’র বলে আউট হওয়ার আগে ৫৪ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। স্টোকের বিদায়ে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে করে ৩৩৭ রান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সামির ৫টি ছাড়া যাদব ও বুমরাহ ১টি করে উইকেট নেন।