নাগরিকত্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ

0
25

 

আসামে ৪০ লাখ মানুষের ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। রাজ্যটিকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত করার কর্মসূচির আওতায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রত্যাবাসনের মুখে পড়ার ভয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন, এমনটা বলছেন ভুক্তভোগীদের স্বজন এবং অ্যাক্টিভিস্টরা। গত মে মাসের কোনও একদিন, ৮৮ বছর বয়সী আশরাফ আলি তার পরিবারের সদস্যদের বলেন যে, রোযা ভাঙার জন্য খাবার সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন তিনি। তার পরিবর্তে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এর আগে আশরাফ এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে সক্ষম হন এবং ভারতীয় নাগরিকদের একটি তালিকায় নামও তোলা হয় তাদের। কিন্তু তার এক প্রতিবেশী এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেন। আশরাফকে তলব করা হয় তার নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য। যা না পারলে তাকে আটকের হুমকি দেওয়া হয়। “তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে তাকে আটকের পর একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হবে,” মোহাম্মদ ঘানি নামে তার এক গ্রামবাসী একথা বলেন। দ্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসি নামে পরিচিত এই তালিকাটি ১৯১৫ সালে তৈরি করা হয়েছিলো এটা জানতে যে, কারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক এবং কারা প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে। এই প্রথমবারের মত ওই তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। যাতে, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের আসামের বাসিন্দা প্রমাণ করতে পারে তাদেরকে ভারতের নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ভারতের সরকারের দাবি, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসী সনাক্ত করতে এই তালিকা দরকারি। গত জুলাইতে সরকার চূড়ান্ত খসরা প্রস্তাব প্রকাশ করে যা অনুযায়ী আসামে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু ও মুসলিম বাঙালি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক ঘোষণায় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের এনআরসি তালিকাসহ আরও প্রায় এক লক্ষ বাসিন্দার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে যাদেরকে আবারো নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে হবে। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ৩১ জুলাই এনআরসি›র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে নিজেদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এই রেজিস্ট্রেশন কর্মসূচির কারণে ১৯৮০র দশক থেকেই দেশে বেশ কিছু ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। যারা নিয়মিতভাবেই বিদেশিদের “সন্দেহজনক ভোটার” এবং “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে সনাক্ত করে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। নাগরিকত্বের রেজিস্টার এবং এই ট্রাইব্যুনাল দুটোই আসামের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযান পরিচালনায় মদদ দেবে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছে। আসামের এই সংকটের মূলে রয়েছে একটি বিতর্ক যা বহিরাগতদের কথিত “অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে গণ্য করাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।