লটকন ফলে লাখপতি চন্দ্রকোনার শরীফুল ইসলাম

0
148

 

 

মো. সুখন, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন লটকন বাগান মালিকরা কয়েক বছর ধরে প্রতি
মৌসুমে লটকন থেকে কয়েক লাখ টাকা করে আয় করছেন। ভাগ্য খুলেছে উপজেলার অনেক লটকন বাগান মালিক ও শতাধিক মৌসুমী ফল বিক্রেতার।
অল্প শ্রম ও খরচে লাভ বেশি পাওয়ায় উপজেলার উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটির পরিত্যক্ত জমিতে লটকন বাগান করে
কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের বন্দটেকী গ্রামের বানিজ্যিক ভাবে লটকন ফল চাষি শরীফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, করিম মিয়ার
সাথে কথা বলে জানা গেছে, বীজের গাছে ফলন আসতে ৮ বছর থেকে ১০ বছর সময় লাগে, কিন্তু
কলম কাটা গাছে ফলন আসতে সময় লাগে মাত্র ২ বছর থেকে ৩ বছর। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুন মাসে লটকন গাছে ফুল আসা শুরু হয় এবং জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিক থেকে ফল পাকা শুরু হয়।

লটকন চাষি শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০০২ সালে প্রথমে ৭০ শতাংশ জমিতে ১২০টি লটকন গাছের মাধ্যমে বাগান গড়ে তুলেন। ৩ কি ৪ বছর পর থেকে ফলন আসে। ২০১৮ সালে তার বাগানের লটকন ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। তবে এবছর ওই বাগানের লটকন
পাইকারী বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৮০ হাজর টাকায়। জৈব পদ্ধতিতে লটকন আবাদ করায়
তার বাগানের লটকনের আকার আকৃতি ও অপেক্ষাকৃত সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। তিনি আরো জানান, তার বাগানের লটকন খুচরা ভাবে বিক্রি করলে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হত। এই ফল চাষে লাভ বেশি হওয়ায় তিনি আরো এক একর জমিতে লটকন বাগান করার জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন।

অন্য এক চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, ২০০৫ সালে লটকন বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার সংবাদ পত্রিকায় পড়ে তার নিজের নার্সারীর ২০টি লটকন গাছ বাড়ির আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জমিতে রোপন করেন। পরের বছর ২৭ শতাংশ জমিতে ৭৫টি এবং ৩৫ শতাংশ জমিতে ৫৬ টি লটকন গাছ রোপন করেন।

২০১৫ সালে ওইসব গাছে ফল আসে, ওই বছর ৭ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করনে তিনি। তার পর থেকে প্রতিবছর ফলন ও টাকা আয়ের পরিমানও বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালে তার দুই বাগানের লটকন পাইকারদের কাছে অগ্রিম ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, অগ্রিম বিক্রি না করলে লক্ষাধিক টাকায় ওই বাগানের লটকন বিক্রি করা যেত। চলতি মৌসুমে তিনি লাখ টাকায় ওই বাগানের লটকন বিক্রি করেছেন।

লটকন বাগান মালিকরা আরও জানান, আগাম
জাতের লটকন খুচরা প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পাইকারী মূল্য ৭৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা করে বিক্রি করা যায়। আর প্রতিমণ বিক্রি হয় ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে। কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে লটকন বাগান করায়, তারা আজ সবাই লাভবান হচ্ছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটির পরিত্যক্ত জমিতে লটকন বাগানের পরিমাণ ও সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। লটকন বাগান বাড়াতে তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

শরীফুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন কালে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাড়ির আঙ্গীনায় এবং যেকোন কাঠ বা ফলের বাগানে লটকন চাষ কার সম্ভব। ছায়া যুক্তস্থানের লটকন অপেক্ষাকৃত বেশি মিষ্টি হয়। তাই এইফল চাষ করতে কৃষি আবাদি জমির দরকার হয়না।