বাংলাদেশ-ভারত-নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত শতাধিক

0
11

 

ভারী বর্ষণ ও বন্যায় দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৌসুমী বৃষ্টিতে তিন দেশের বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৪০ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় শতাধিক নিহত হয়েছে।

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটির দারিদ্রপীড়িত প্রদেশ আসাম এবং বিহার। উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আসামে পানি বাড়তে থাকায় গত ১০ দিনে কয়েক লাখ মানুষ বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আসাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি আরও বেড়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা এ নদী ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যায় বিরল এক শিংয়ের গন্ডারের আবাসস্থল আসামের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের অধিকাংশ ডুবে গেছে। সোমবার (১৫ জুলাই) ওই এলাকায় চার জন ডুবে মারা গেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানান্দ সানোয়াল সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজ্যের ৩২টি জেলার মধ্যে ৩১টির বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। আমরা বন্যাপরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছি।

দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবরে দেখা যায়, বিহারের অধিকাংশ এলাকার সড়ক ও রেলপথ ডুবে গেছে। লোকজন বুক সমান পানিতে নেমে বাড়িঘর ছেড়ে মাথায় মালপত্র নিয়ে অন্যত্র যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রত্যেক বছর বন্যায় ব্যাপক পরিমাণে বাস্ত্যুচুতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বর্ষার শুরুর দিকে এই ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া মারা যায় আরো কয়েক হাজার গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর।

হিমালয় থেকে নেমে আসা ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। আসাম ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রের পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে আসামে এক ডজনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ভারতের প্রতিবেশী নেপালে বন্যায় ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরো ৩১ জন। ২০০৮ সালে নেপালে কসি নদীর তীর ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। এতে কমপক্ষে ৫০০ জনের প্রাণ যায়।

এদিকে, বাংলাদেশের বেশ কিছু জেলায় বন্যার পানিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।