বাবার কোলে চড়ে পরীক্ষা দিয়ে নাইচ’র এইচএসসি জয়

0
22

 

 

অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল ঠিক থাকলে স্বপ্নগুলো এক সময় বাস্তবে রূপ নেয়। এমনটাই করে দেখিয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী নাইচ খাতুন।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে এবার বিশ্বহরিগাছা বহালগাছা বহুমুখি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২.৭৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে। সে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

নাইচ খাতুনের দুটো পা থাকলেও সেগুলোতে বল পায় না। ডান হাতেও নেই শক্তি। সম্বল তার বাঁ হাত। এনিয়েই চলছে তার নিরন্তন লড়াই। শারীরিক প্রতিন্ধকতার কাছে হার না মানা নাইচ খাতুন বাবার কোলে চড়ে গত ১লা এপ্রিল ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

শরীরের প্রতিবন্ধকতাকে হাঁসি মুখেই জয় করেছে সে। বাঁ হাতের শক্তি ও মনোবল নিয়েই শিক্ষা জীবন শুরু করে নাইচ। রাতদিন পরিশ্রম করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাইচ খাতুনের বাড়ী ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা গ্রামে। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন প্রান্তিক কৃষক ও মা আকতার জাহান গৃহীনি। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাইচ ছোট। বড় ভাই রবিউল করিম বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অনার্সের ছাত্র। মাত্র দেড় বিঘা ফসলী জমির ওপর চলে লেখাপড়া ও সংসার।

নাইচ খাতুনের বাবা নজরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার দুটো পা ও একটি হাত অচল। একারনে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। তারপরও সে লেখাপড়া করতে চায়। তাই তার মা ও তিনি ছোট থেকেই নাইচকে কোলে তুলে নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজের বেঞ্চে বসিয়ে দিয়েছেন। ক্লাস শেষে আবার একই ভাবে তাকে বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এভাবেই সে বিশ্বহরিগাছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩.৫৫ পেয়েছে। ২০১৯ সালে ২.৭৫ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষাতেও পাশ করেছে সে। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে তাকে লেখাপড়া করাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও মেয়ের স্বপ্ন পুরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নাইচের চিকিৎসার জন্য অনেক ডাক্তার ও কবিরাজের কছে গিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তাকে সুস্থ করতে পারেননি।

নাইচ খাতুন বলেন, আমি কারো মাথায় বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। তাই ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল নিয়ে বাম হাত দিয়েই শিক্ষা জীবন শুরু করে এবার এইচএসসি পাশ করেছি। এভাবেই কষ্ট করে লেখাপড়া করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাই।