ভুঞাপুরে ৫ ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি

0
17

 

 

যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরের পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এরমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে খাদ্য, পানির তীব্র সংকট, গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাসস্থানে পানি ঢুকে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামবাসী।

বুধবার (১৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে গরু-ছাগল ও পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভুঞাপুর উপজেলায় যমুনার পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সামনে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যমুনা নদীতে পানি বেড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ঢুকে পড়ায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কতৃর্পক্ষ। এতে উপজেলার ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম, নিকরাইল ইউনিয়নে ৮টি, গাবসারা ইউনিয়নে ৬টি, অর্জুনা ইউনিয়নে ১৮টি ও ফলদা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর আগে কয়েকদিনের ভাঙনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ভাঙন হয়। তাতে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে। এছাড়া অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙনে ফসলি জমি নদী গর্বে চলে গেছে।

ভাঙন ও বন্যার কারণে দিশেহারা এসব মানুষ মানববেতর জীবন-যাপন করছে। জায়গাসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

যদিও ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, ভাঙনরোধে সরকার যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতো তাহলে মানুষকে বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি ছাড়তে হতো না। আঘাত হানতে পারতো না প্রমত্তা যমুনা। একদিকে ভাঙন অন্যদিকে বন্যা মানুষের জীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে।