ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে যে খাবারগুলো

0
11

 

 

ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী মারা যাচ্ছে বহু সংখ্যক মানুষ। এই মরণব্যাধির যেমন বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে আলাদা লক্ষণও। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা ক্ষতিকারক দিকও এই অসুখের অন্যতম কারণ। তাই জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা ও ক্ষতিকারক অভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাতেও যোগ করা উচিত এমন কিছু খাবার, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

খুব ভারি খাবার, তেল-মশলার খাবার কমিয়ে বরং খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এমন পুষ্টিকর কিছু উপাদান, যা এই রোগ প্রতিরোধে অনেকটাই সাহায্য করবে আপনাকে।

১. ব্রকলি একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রস্টেট, কোলন এবং ব্লাডার ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতে ব্রকলির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটির অন্দরে উপস্থিত ‘সালফোরাফেন’ নামক উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ক্যান্সার সেল সৃষ্টিকারি বিশেষ কিছু রাসায়নিক শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কা আর থাকে না।

২. পালং শাক পালং শাক হলো আদর্শ একটি খাবার। পালং শাকে উপস্থিত ভিটামিন সি, কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌথ ভাবে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানদের মেরে ফেলে। ফলে এই মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। তাই তো বলি বন্ধু, নিজের এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের আয়ু বৃদ্ধি পাক, এমনটা যদি চান, তাহলে পালং শাক দিয়ে তৈরি নানা পদ খেতে ভুলবেন না যেন!

৩. গ্রিন টি

গ্রিন টি ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধে গুরুত্যপুর্ন ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকেদের মতে প্রতিদিন ২-৩ কাপ গ্রিন টি পান করা শুরু করলে শরীরে এত মাত্রায় অ্যান্টঅক্সিডেন্টের প্রবেশ ঘটে যে ইসোফেগাল, লাং, ওরাল, লিভার, প্যানক্রিয়াটিক এবং প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতোটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৪. টমেটো ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে বাস্তবিকই টমেটোর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটি খাওয়া মাত্র শরীরের ভেতর লাইকোপেন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা আসলে একটি অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কাঁচা টমাটো খাওয়া শুরু করলে প্রস্টেট, এন্ডোমেটরিয়াল, লাং, প্রস্টেট এবং স্টমাক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

৫. আদা ক্যান্সার রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে হলে নিয়মিত অল্প করে কাঁচা আদা খাওয়া উচিত। ক্যান্সার সেলের প্রকৃতি বদলে গিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলে।

৬. আপেল প্রতিদিন আপেল খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আর যদি আপেলের খোসা খাওয়া শুরু করেন, তাহলে তো কথাই নেই! কারণ একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত আপেলের খোসা খেলে শরীরে উপস্থিত ক্যান্সার কোষদের আয়ু কমতে শুরু করে। ফলে প্রস্টেট এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে।

৭. কমলা লেবু কমলা লেবু ক্যান্সার নিরাময়ে গুরুত্যপুর্ন ভূমিকা পালন করে। এ ফলটির মাঝে উপস্থিত আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর ক্যান্সার কোষদের ধ্বংস করে দেয়। ফলে কোনও ধরনের ক্যান্সারেই আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

৮.গাজর গাজরে আছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জাতীয় খাবার ফ্যাট অক্সিডেশনে বাধা দেয় ও শরীরে ক্যান্সারের কোষ উৎপাদন কমায়। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় গাজরের ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতার কথা সামনে এসেছে। গাজর সেদ্ধ করে স্যালাড থেকে শুরু করে বিভিন্ন রান্নায় গাজর যোগ করলে তা কোলন ক্যান্সার, পাকস্থলির ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৯.ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ খাদ্যনালির ক্যান্সার কমাতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত (স্যামন, ম্যাকারেল ইত্যাদি) মাছ খুবই উপকারি। ওমেগা থ্রি থাকায় এই সব মাছ খেলে তা ক্যান্সার প্রবণ কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। তাছাড়া এতে ভিটামিন ডি থাকায় তা ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধেও খুবই কার্যকর।

১০.অলিভ অয়েল রান্নায় অলিভ অয়েল যোগ করতে পরামর্শ দেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অলিভ অয়েল কেবল মেদ কমায় না, রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে বা স্যালাদের খেলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমে।

১১. হলুদ এই মসলা এমনিতেই প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। কোলনে কোনো রকম টিউমার বা ঘা কমাতে হলুদ বিশেষ উপকারি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা এক মাস খাবারের সঙ্গে চার গ্রাম করে হলুদ মসলা হিসাবে যোগ করার পর কোলন ক্যান্সারে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমাতেও এই মসলা বিশেষ উপকারি।

১২. লেবু পানি লেবু শরীরের টক্সিন দূর করে শরীরকে বিষমুক্ত রাখে। প্রতিদিন গরম পানিতে একটি পুরো পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের টক্সিন দ্রুত বেরিয়ে যায়। সারা দিনে ৩-৪ বার এই পানীয় খেলে তা ক্যান্সারের আক্রমণ প্রতিরোধ করে বলে চিকিৎসকরা বলেন। আর গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খাওয়া হয় বলে গ্যাসজনিত সমস্যা থাকলেও লেবুর রস এ ক্ষেত্রে সমস্যা করে না।