৫০০ মশা মেরে জমা দিন, পুরস্কার ১০০ টাকা জিতে নিন

0
16

 

 

রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। মশা মারা ছাড়া বিকল্প কিছু দেখছেন দুই সিটি মেয়র। মশা নিয়ে সারাদেশেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় রংপুরের সাবেক পৌর মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর ছেলে রিয়াজ হিমন মনে করিয়ে দিলেন ১৯৯৩ সালের ‘৫০০ মশা ১০০ টাকা’! ঘোষণার কথা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগম মাধ্যম ফেসবুকে বাবার দেয়া ঘোষণা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন- ‘৯৩ সালে রংপুরে একবার মশার প্রকোপ অনেক বেড়ে গেল। তখন আব্বা মাত্র সিটি (তখন পৌরসভা) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আব্বা তখন উদ্ভট এক ঘোষণা দিলেন ‘৫০০ মশা ১০০ টাকা!’ হ্যাঁ আপনাদের মতোই সবাই অবাক হয়েছিল।

বাট ইট ওয়াজ হিউজ ইফেক্টিভ। পাড়ায়-মহল্লায় মশা মারার ধুম পড়ে যায়। সবাই গামলায়, বালতিতে যে যেটাতে পারে তেল মেখে ড্রেন, খাল, ডোবা যেখানে মশা বেশি সেখানে একটান দিত একবারে হাজার হাজার মশা গামলায় ধরা পড়ত। ১৫ দিনে সত্যি সত্যি মশার প্রকোপ উধাও হয়ে গিয়েছিল!

বিবিসি থেকে আমাদের বাসায় প্রতিনিধি আসলো আব্বার ইন্টারভিউ নিতে যে, এই উদ্ভট ঘোষণার কারণ কী?

আব্বা বলেছিলেন, দেখুন জেলখানা থেকে নির্বাচন করার পরও মানুষ আমাকে সবগুলো সেন্টারে প্রথম করেছে। আমার কাছে তাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি। এই সরকার আমাকে এক টাকাও দেয় না।

ট্যাক্স আর ট্রেডের টাকা দিয়ে আমি বেতন দেই। আমার কাছে যে টাকা আর ম্যানপাওয়ার আছে তা দিয়ে ১৫টি ওয়ার্ড কেন ১টি ওয়ার্ডের মশাও মারা সম্ভব না। আর যাকে দিয়ে ওষুধ কেনাব সেই বেশিরভাগ মেরে দেয়! তাই সবাইকে যতক্ষণ না আমি উদ্বুদ্ধ করতে পারব মশা মারা সম্ভব না।

আমি হিসাব করে দেখেছি, রংপুর পৌরসভায় ১০০টির মতো ক্লাব আছে ওদের ব্যাট বল প্রয়োজন আর যারা মশা মেরে মেরে আনছে তার বেশিরভাগই ছোট ছোট ক্লাবের ছেলেরা আমি ওদের টাকার পরিবর্তে ব্যাট বল দিচ্ছি ওরা তাতেই খুশি। আর রংপুর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তো আমাদের সবার।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে একবার এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। রংপুরে মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তৎকালীন পৌর মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু এ ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণা সারাদেশে আলোড়ন তুলেছিল এবং কাজেও দিয়েছিল। মাত্র ১৫ দিনে মশার প্রকোপ অনেক কমে যায়।