ক্ষোভের কারণে সন্তানদের হাতে পিতা খুন

0
19

পারিবারিক কলহ ও পিতার উপর দীর্ঘ দিনের সঞ্চিত ক্ষোভের কারণে নিজ বাসায় পিতাকে হত্যা করেছে সন্তানরা। শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি তারা, হত্যাকে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা সাজিয়েছিল তারা।

২৯ জুলাই বেলা ১১টায় ডিসি ওয়ারী অফিসে প্রেস ব্রিফিংয়ে যাত্রাবাড়ি এলাকায় খুনসহ ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর এমন তথ্য প্রদান করেন ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান পিপিএম।

খুনসহ ডাকাতির ঘটনাটি ছিল সাজানো, প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ডিসি ওয়ারী বলেন, ২৮ জুলাই সকাল ৬টায় যাত্রাবাড়ি থানার কোনাপাড়া মোমেনবাগে একটি বাড়িতে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এমন সংবাদে আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাই। বাসায় গিয়ে দেখি রুমের খাটের উপর মহিবুল্লাহ নামের ৬৫ বছরের এক বয়স্ক মানুষের মৃতদেহ পড়ে আছে। মৃতদেহের মাথায় আঘাত ছিল ও বিছানায় রক্ত জমাট বেধে আছে এবং বাসার কাপড়-চোপর ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে আছে। ঘটনাটি দেখার পর আমরা মৃত মহিবুল্লাহ সাহেবের ছেলে শামীম হাসান (২২) ও মেয়ে মোহাসিনা আফরোজ প্রীতি (২৫) এবং মহিবুল্লাহ সাহেবের স্ত্রীর সাথে কথা বলি। তারা ডাকাতির ঘটনা বলে এবং ডাকাতরা তাদের বাবাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের জানায়। ঘটনা সম্পর্কে আমরা যাবতীয় তথ্য সংগ্রহপূর্বক তদন্ত শুরু করি। যেহেতু খুনসহ ডাকাতি তাই সম্ভাব্য সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি।

তদন্তকালে তাদের দেয়া তথ্যের মধ্যে আমাদের সন্দেহ হলে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এমন কিছু তথ্য পাই, যে তথ্যের সাথে মহিবুল্লাহ সাহেবের ছেলে ও মেয়ের প্রদত্ত তথ্যের অমিল রয়েছে। তখন আমরা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্য শামীম ও প্রীতির কাছে প্রকাশ করলে, তারা বুঝতে পারে আমরা সত্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

তখন তারা জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যে যার যার রুমে শুয়ে পড়েছিল। এমন সময় তার বাবা মাকে মারধর করে। সে সময় পাশের ঘর থেকে মেয়ে প্রীতি এসে বাবা মহিবুল জিজ্ঞাসা করে কেন মাকে মারছেন? এমন প্রতিবাদ করাই প্রীতিকে মারধর করে মহিবুল। তখন তার ছেলে শামীম আসে। ছোট বেলা থেকে শামীম দেখছে তার বাবা মাকে ও তাদের মারধর এবং গালাগালি করত। একারণে বাবার প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা ও দীর্ঘ দিনের সঞ্চিত ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভ ও ঘৃণার কারণে শামীম তার বাবার গলা চেপে ধরে ও প্রীতি পাশে থাকা গ্লাসের তৈরি ভারী মগ দিয়ে বাবা মহিবুল্লাহর মাথায় আঘাত করলে সে বিছানায় ঢলে পরে। এরপর পরই বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আলমারি থেকে রশি এনে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এরপরে তারা হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে তারা আলমারি থেকে কাপড় বের করে রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে, রুমের মধ্যে বাহির থেকে আসা জুতার ছাপ দিয়ে ডাকাতির ঘটনা সাজায় এবং ভোর ৪ বা সাড়ে ৪ টার দিকে আশপাশের ভাড়াটিয়া প্রতিবেশীদেরকে বলে তাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা তার বাবাকে খুন করেছে।

এ সংক্রান্তে মৃত মহিবুল্লাহ’র ভাই বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের আজ ২৯ ‍জুলাই বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।