দায়িত্বে অবহেলা ও গাফলতি ভোগান্তিতে রোগীরা

0
15
মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরব:
‘দায়িত্বে অবহেলা ও গাফলতি ভোগান্তিতে রোগীরা’ ভৈরবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা
প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত ।
২৮ জুলাই রোববার, ঘড়ির কাটায় সকাল সাড়ে ৯টা। অপারেশন থিয়েটারের সামনে গর্ভবতী মায়ের ভীড় বাড়ছে। তারা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে গাইনী সেবা নিতে এসেছেন। কিন্তু ঘড়ির কাটা যখন সাড়ে ১০টা তখনো ডাক্তারের দেখা না পেয়ে অনেকে ক্ষোভে ফুসে ওঠেছেন। আবার কেউ কেউ অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। সময় যখন ১১টা, তখন জানা গেলো হাসপাতালে কর্মরত জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. হরিপদ দেবনাথ শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে (অনকলে) সিজারীয়ান অপারেশন করতে গেছেন। কাজ শেষ হলেই তিনি আসবেন। এসময় উপজেলার চানপুর থেকে সেবা নিতে আসা আকলিমা বেগম ডা. হরিপদের উদ্দেশ্যে আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে চাকুরী করেন আর ডিউটি করেন প্রাইভেট হাসপাতালে। আরে বাবা টাকা তো আমরাও দেই। অবশেষে সাড়ে ১১টার পরে দেখা মেলে তার। ততক্ষণে কেউ কেউ চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
পরে হাসপাতালে জানাযায়, সকাল ৮টা ২০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. হরিপদ দেবনাথ বায়োমেট্রিক মেশিনে (ডিজিটাল পদ্ধতি) হাজিরা দেন। পরে মেহমান আসছে বলে তিনি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। শুধু তিনি নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. কেএনএম জাহাঙ্গীরও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে হাজিরা শেষে বেরিয়ে যান। এছাড়াও জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. দিদালুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ রয়েছে। দিনের পর দিন আর মাসের পর মাস কর্মস্থলে তারা দায়িত্বে অবহেলা ও গাফলতি করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জেলার সিভিল সার্জন। ফলে সেবা নিতে আসা গ্রামের সহজ-সরল মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েন। অথচ সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে হবে। আর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দিতে হবে। কিন্তু কে মানে কার কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, ডাক্তারদের এ অবস্থা নতুন কি। টিএইচও না থাকায় আরএমও সাহেব গেছেন ইউএনও সাহেবের সাথে মিটিং করতে। কিন্তু ইউএনও সাহেবকে ফোন দিয়ে জানা গেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোন ডাক্তারের সাথে আজ কোন মিটিং নেই।  উল্লেখিত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে একাধিকবার জাতীয় পত্রিকায় ও স্থানীয় পত্রিকায় অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পরও অদ্যাবধি পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. কেএনএম জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, আমি ব্যক্তিগত কারণে অল্প সময়ের জন্য বাসায় চলে এসেছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যাব।
জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. হরিপদ দেবনাথ জানান, ব্যাংকে একটু কাজ ছিল। যার কারণে বের হয়ে গিয়েছিলাম।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে হবে। কেউ যদি হাজিরা শেষে হাসপাতালে রোগীদের সেবা না দিয়ে চলে যায়। সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।