লবণসহিষ্ণু গমের জাত নিয়ে হাবিপ্রবি কর্মকর্তার গবেষণা; সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মোচন

0
12
 লবণসহিষ্ণু গমের জাত নিয়ে  গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের পিএইচডি ফেলো ও ডেপুটি চীফ ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট এস.এইচ.এম. গোলাম সরওয়ার ।
নতুন জাত উদ্ভাবন করার জন্য বিগত ৪ বছর ধরে তিনি  এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন । বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনিস্টিটিউট হতে ৩০টি জিনোটাইপ নিয়ে তা বিভিন্ন প্রকার লবণসহিষ্ণু পরিবেশে এসব গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে তিনি জানান ।
 তিনি বলেন,  প্রাথমিকভাবে আমি এই ৩০টি জিনোটাইপ গবেষণাগার ও মাঠ পরীক্ষণের মাধ্যমে লবণসহিষ্ণু জাত বাছাই করার চেষ্টা করি। বাচাইয়ে প্রাপ্ত ফলাফলের উপর-ভিত্তি করে ৩০টি জাতকে লবণসহিষ্ণু, মধ্য-লবণসহিষ্ণু ও লবণাক্ততা সংবেদনশীল এই ৩টি গ্রুপে বিভক্ত করি । এরপর এই ৩টি গ্রুপের প্রত্যকটি হতে ২টি করে জিনোটাইপ নিয়ে 6´6 হাফ ডায়ালাল মেথডে  15wU F1 জেনারেশন তৈরির কাজ করি । দ্বিতীয় ধাপের গবেষণায় এই 15wU F1 জেনারেশন কৃত্রিম (হাবিপ্রবি) ও প্রাকৃতিক লবণাক্ত পরিবেশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণায় 15wU F1 জেনারেশনের জিসিএ, এসসিএ এবং বিভিন্ন ধরনের হেটেরোসিস ও বিভিন্ন কৌলিতাত্তিক মান  নির্ণয় করেন। ৩য় ধাপের গবেষণায় এই  15wU F1 জেনারেশনকে আবার প্রাকৃতিক লবনাক্ত পরিবেশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করি।
নিবিড়ভাবে পরীক্ষণের জন্য ৬টি জেনোটাইপের ৪টি ক্রসের মাধ্যমে জেনারেশন মিন এনালাইসিস করা হয়। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে জানা গেছে, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনিস্টিটিউট (সাবেক গম গবেষণা কেন্দ্র) কর্তৃক উদ্ভাবিত গমের জাত বারিগম ২৫ ও শতাব্দীতে লবণাক্ত সহনশীল জিন বিদ্যমান রয়েছে। এই জিনোটাইপ দুটির ক্রসগুলোর পরবর্তী জেনারেশনগুলো প্রাকৃতিক লবণাক্ত পরিবেশে ভাল ফলাফল  দিবে বলে আশা করছি। এজন্য প্লান্ট ব্রিডিং এর বিভিন্ন মেথড যেমন, সিঙ্গেল সিড ডিসেন্ট মেথড, মডিফায়েড পিডিগ্রী মেথড ব্যবহার করা হয়েছে । লবণাক্তপ্রবণ অঞ্চলে গম চাষ করা হলে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে আরো সুদৃঢ় ভিত্তি দিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন । দেশের লবণাক্ত পরিবেশে গম উৎপাদনের জন্য আরও বেশি গবেষণা হওয়া দরকার । গবেষণা হলে লবণাক্ত পরিবেশে গম উৎপাদনের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
জনাব এস.এইচ.এম. গোলাম সরওয়ার, ডেপুটি চীফ ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট,হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধীনে “Genetic analysis of yield and yield contributing traits in wheat under salt stress environment” শিরনামে গবেষণা করেছেন।   তার গবেষণার তত্বাবধায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান ও সহ-তত্বাবধায়ক ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস।
জনাব এস.এইচ.এম. গোলাম সরওয়ার সাবেক হাজী মোহাম্মাদ দানেশ কৃষি কলেজ হতে বি.এস-সি.এজি ডিগ্রী ও বর্তমান হাবিপ্রবি’র এগ্রোনমি বিভাগ হতে এম.এস ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চীফ ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট কর্মরত আছেন । কর্মরত অবস্থায় নিজের ইচ্ছা শক্তি আর দক্ষতাকে আরও বেশি শাণিত করতে পিএইচডি ডিগ্রীর জন্য পড়াশোনা করেন এবং সফলভাবে ডিগ্রী শেষ  করতে সমর্থ হন। জনাব সরওয়ার হাবিপ্রবি কর্মকর্তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি যিনি পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেছেন। তার  বাসা দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার পিতা- জনাব মো. আব্দুল ওয়াহাব সরকার, প্রধান শিক্ষক (অব:) ও মাতা- নূর জাহান বেগমের প্রথম সন্তান।  ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে সন্তানের জনক।