গো-খাদ্যের দাম চড়া, গরুর বাজার সস্তা

0
82

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাটঃ   লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে গরুর আমদানির সাথে দামও অনেক কম। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরুর চাহিদা কম তাই দামও কম। আর চাহিদা না থাকায় গরুর বাজার একদম সস্তা।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর কোরবানির হাটে যে গরু লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা বর্তমান বাজারে সল্প দামে ৬০/৭০ হাজার টাকায় ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।

বাজারে গরুর খুব বেশি আমদানি নেই সীমান্তের পশু হাটে। সীমান্তের কঠোর নজরদারীর ফলে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে এমন খবরে বেপারীরা ভিড়ছেন না সীমান্তের হাটগুলোতে। একই সঙ্গে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অপর দিকে লোকসান ঠেকাতে অধিক মুল্যে গরু বিক্রির আশায় ঈদের আগাম বাজারে গরু তুলছেন না খামাড়ি ও কৃষকরা।

খামারিরা জানান, বাড়ছে গো- খাদ্যের দাম। ভূষির বাজার প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ৮শত টাকার ভূষির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১২শত ৫০ টাকায়। খড় মেলানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কাঁচা ঘাস সব খামাড়ির ভাগ্যে জোটে না। ফলে গরুর ক্ষুদ্র ও মাঝাড়ি খামাড়িরা গরু নিয়ে পড়েছে অনেকটাই বিপাকে।

গত কয়েক মাসে খাদ্যের ব্যায় বিবেচনায় রেখে বর্তমান বাজারে তুলছেন না তাদের গরু। এছাড়াও স্থানীয় ক্রেতাহীন বাজারে চাহিদা কম। ঈদের দু’এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় ক্রেতারা কোরবানির পশুর জন্য বাজারে ভিড়লে চাহিদা অনুযায়ী গরুর দামও বৃদ্ধি পাবে। সেই আশায় এখন বাজারে তুলছেন না তাদের খামাড়ের গরু ছাগল।

এ ছাড়াও বাহিরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা বিগত বছরের তুলনায় আগাম গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাদের দাবি গরুর দাম কিছুটা কম হলেও ঈদের বাজার ধরতে এখনও অনেক সময় বাকী রয়েছে। ঈদ পর্যন্ত গরু মহিষকে খাওয়াতে অনেক খরচ। বিশেষ করে গরুর প্রধান খাদ্য খড় দুস্প্রাপ্প বস্তুতে পরিনত হয়েছে। একটি বয়স্ক গরুকে দৈনিক ৮০/৯০ টাকার খড় খাওয়াতে হয়। ঈদের বাজার ধরা পর্যন্ত খাদ্যের খরচ মিটিয়ে লাভ করা কষ্টকর হবে। তাই ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ক্ষুদ্র খামাড়ি আলম মিয়া জানান, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু সেই অনুযায়ী বাড়েনি গরুর দাম।

এই বাজারে গরু বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। খাদ্যের দাম বাড়ায় বড় বড় ব্যবসায়ীরা আগাম বাজারে গরু কিনছেন না। তবে ঈদের দু’এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বড় বড় ব্যবসায়ীরা বাজারে ভিড়লে গরুর দাম বৃদ্ধি পেলে তখন বাজারে তুলবেন তাদের গরু ছাগল।

গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্গাচাষি মোকলেছার রহমান অন্যের কাছে বর্গা নেয়া গরুটি বিক্রি করতে দুরাকুটি হাটে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু দাম কম বলায় আবার ফিরে নিয়ে যান। মুনাফা তো দুরের কথা। যে দাম বলে তাতে খাদ্যের খরচ উঠছে না। ঋন করে হলেও ঈদ পর্যন্ত রাখতে হবে। ঈদের বাজারে চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে তখন লোকসানের ঝাঁকি থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।