কাশ্মীর ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন রনি

0
22

 

 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে গোটা ভারতে। কাশ্মীর ইস্যুতে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তার সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে কিছু বক্তব্য রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। ভিডিও থেকে তার সেই কথাগুলো পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত দর্শক, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বরকাতুহু। আপনারা জানেন যে বাংলাদেশ সরকারের যে সচিবালয় আছে, সেই সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নামে একটা মন্ত্রণালয় আছে। এবং সেই মন্ত্রণালয়ে একটা মন্ত্রীর চেয়ার আছে। সেই চেয়ারে ইদানিংকালে যে ভদ্রলোক বসেন, তাকে আপনারা অনেকেই চেনেন বা তার নামও জানেন। তিনি কিভাবে মন্ত্রী হয়েছেন, কিভাবে ওই চেয়ারে বসেন, সেটা আমার মতো আপনারাও দেশবাসী ওয়াকিবহাল আছেন, ওই ব্যাপারে আমার কোনো কিছু বলা নাই। কিন্তু সাম্প্রতিককালে তিনি যে একটি কথা বলেছেন, একটি বক্তব্য দিয়েছেন যেটা পত্রপত্রিকায় এসছে, আমার কাছে মনে হচ্ছে বিবেকের তারনা থেকে এ বিষয়টা নিয়ে কোন কিছু না বললেই নয়। সেই কারণ হল তিনি যে সাম্প্রতিক সময়ে পাক-ভারত উপ-মহাদেশসহ সমস্ত মুসলিম বিশ্বে এবং পৃথিবীতে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে যে উত্তেজনা চলছে, সে উত্তেজনায় সব আশঙ্কা করছে যে, যেকোন মুহূর্তে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। এবং যখনই এই যুদ্ধটি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আসবে, সঙ্গত কারণে সেখানে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তানসহ অন্যান্য মুসলমান বিশ্ব এমনকি সৌদি আরবও দৃশ্যতো হোক অদৃশ্যতো হোক, গোপনে হোক প্রকাশ্যে হোক, পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি না আসলেও কাশ্মীরি মুসলমানদের সাহায্যের ব্যাপারে বাধ্য থাকবে নিজ দেশের জনগণের চাপের কারণে। এবং এটাই ধ্রুব সত্য।

এর কারণটা হলো ১৯৪৭ সালের পর থেকে জম্মু এবং কাশ্মীর যে এলাকাটি সেটি ভারতের এলাকা নয়। সেটি একটি দখল করা একটা এলাকা এবং সবাই বলে আসছে এটা একটা অবৈধ দখল, যেভাবে আমরা সারা দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষ মনে করি যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি যে জবরদখল করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে আমাদের পাক-ভারত উপ-মহাদেশের এই জম্মু এবং কাশ্মীর এলাকাটির ৮৬ পার্সেন্ট মুসলমানের সমস্ত অধিকারকে পায়ের নিচে, বুটের নিচে চাপা দিয়ে শুধুমাত্র প্রতারণা চক্রান্ত এবং রাষ্ট্র শক্তির কলাকৌশল ব্যবহার করে সুদীর্ঘকাল যাবত সেটাকে দখল করা হয়েছে। এবং সেই দখলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত সেই ৪৭ থেকে আজ অবধি একের পর এক সংগ্রাম করে কত হাজার যে মানুষ মারা গেছেন, কত মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন, কত মানুষ জেল খাটিয়েছেন, একটা অমানবিক দৃশ্য।

একটা সামন্ততান্ত্রিক নয় একটা স্বৈরতান্ত্রিক দেশের একটা অগণতান্ত্রিক আচরণ। সেই ভারত সাম্প্রতিককালে তাদের সেই অতীত মনোবৃত্তিটাকে একেবারে উলঙ্গ করে দিয়ে কাশ্মীরকে পরিপূর্ণভাবে দখল করার জন্য তাদের সংবিধানের যে দুটো ধারা ছিল একটা ৩৭০ আর্টিকেল এবং ৩৫এর (ক) ধারা, যার মাধ্যমে মূলত কাশ্মীরকে আইনগতভাবে কাগজে কলমে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ঠিক সেই সুযোগ-সুবিধাটা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কাশ্মীরকে এখন দুটো ভাগে ভাগ করে কেন্দ্রীয় সরকারের আন্ডারে নিয়ে আসা হয়েছে এবং অন্যান্য রাজ্যের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো আছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গ, নাগাল্যন্ড, মেঘালয়, আসাম, এদের চাইতেও আরো খারাপ অবস্থায় কাশ্মীরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।