ঐতিহ্য হারাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার রোয়াজারহাট কোরবানির পশুর বাজার

0
16

 

মোঃ আব্দুল্লাহ্, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রামঃ একসময় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রোয়াজারহাট বাজার ছিল পশুর বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর বাজার বসত এখানে। ছিল বড় বড় ব্যবসায়ী। ছোট থেকে বড় দেশি, বিদেশি, পাহাড়ি হরেক রকমের গরু পাওয়া যেত এখানে। এমনকি বিশাল বিশাল গয়ালও এখান থেকে কেনা যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এ বাজার।

এখন বাজার ঠিকই বসে তবে দেখা যায়না আগের মত বড় বড় ব্যবসায়ী । দেখা যায়না সুবিশাল মাঠ জুড়ে পশুর বাজার আর হাজার হাজার মানুষ। পর্যাপ্ত পশু না থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহও কমে গেছে এ বাজারের প্রতি। আর ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতাও হতাশ । তাছাড়া ক্রেতা বিক্রেতা কমে যাওয়ার জন্য কয়েকটি বিশেষ কারণকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।

কয়েকজন ক্রেতা , বিক্রেতা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারের ইজারাদাররা এ বাজারের প্রতি উদাসীন, তারা বাজার হারানোর কারণ উৎঘাটন করে কোনো কার্যক্রর পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। ফলে প্রতি বছর ক্রমেই ছোট হচ্ছে এ পশুর বাজার। এরকম চলতে থাকলে একসময় এ পশুর বাজার হারিয়ে যাবে বলে দাবী করেন তারা । বিক্রেতাদের অভিযোগ উপজেলার অন্য সব বাজার থেকে এ বাজারে পশু প্রতি টোল বা হাছিল আদায় বেশি হয়। অন্যসব বাজারে যেখানে হাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা সেখানে এ বাজারে প্রায় তার দ্বিগুন। ক্রেতারা তাই এ বাজারে কম আসতে চাই ।

তাছাড়া এখন যে স্থানে পশুর বাজার বসে সেখানে সুশৃঙ্খল ভাবে পশুগুলো রাখার ব্যবস্থা না থাকায় ভালোভাবে দেখে-শুনে পশু কেনা কষ্টকর। কয়েকজন বিক্রেতা অভিযোগ করেন বাজারে পশুগোলো সুন্দরভাবে বেধে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়নি । লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও সন্ধ্যার আগেই এ বাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে যায়। নাই কোনো প্রশস্ত জায়গা। নাই কোনো সুন্দর প্যান্ডেলের ব্যবস্থা। বাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয় এ বাজারে তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছেন। বাজারে বসানো হয়েছে জাল নোট ধরার মেশিন, তাছাড়া সুস্থ পশু যাচাই করে কেনার জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে মেডিকেল টিম। ক্রেতা, বিক্রেতা , স্থানীয় সবার- ই বক্তব্য, সর্বোপরি বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা তথা পশুর টোল বা হাছিল যথাসম্ভব অন্য বাজারের তুলনায় কম রাখা হলে খুব শীঘ্রই ফিরে আসবে এ বাজারের ঐতিহ্য। নয়তু অচিরেই হারাবে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী কোরবানি পশুর এ বাজার।