আমাকে যে পুরস্কার দেয়া হলো এটা আমার কাছে অন্যরকম-রুনা লায়লা

0
73

বিনোদন ডেস্কঃ   সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা গান করেই দেশ বিদেশ থেকে অর্জন করেছেন বহু গুরুত্বপূর্ণ পদক, সম্মাননা। অথচ ‘ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক’ পেয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পী বললেন ভিন্ন কথা।

পদক পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেন, পুরস্কার সব সময়েই আনন্দের। সব পুরস্কারই অনুপ্রেরণা যুগায়। কিন্তু আজকে আমাকে যে পুরস্কার দেয়া হলো এটা আমার কাছে অন্যরকম এক সম্মানের। কারণ, এতে ফিরোজা বেগম আপার নামটা জড়িয়ে আছে।

কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ২০১৬ সাল থেকে গঠিত হয় ‘ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’। এর আওতায় প্রতিবছর দেশের একজন বরেণ্য ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। আর এবার এই পদকটি পেলেন রুনা লায়লা।

সোমবার (৩০ জুলাই) বিকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার হাতে তুলে দেয়া হয় ‘ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের হাত থেকে এই পুরস্কার নেন রুনা লায়লা।

এই পুরস্কারের গুরুত্ব বোঝাতে রুনা লায়লা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে যখন আমাকে এই পুরস্কার বিষয়ে জানানো হয় ফোনে, আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনাকে আমরা ‘বেগম ফিরোজা বেগম পুরস্কার ২০১৮’ দিতে চাইছি। আপনি কি গ্রহণ করতে রাজি আছেন? আমি বললাম, গ্রহণ না করারতো কোনো কারণই নেই। এটা আমাকে জিজ্ঞেস করাই উচিত হয়নি। কারণ এটা এতো বড় একটা সম্মান! এতো বিশাল একজন শিল্পীর নাম আছে এটাতে, আমি কীভাবে গ্রহণ না করে থাকতে পারি!

ফিরোজা বেগমের কথা তুলে ধরে রুনা লায়লা তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী নজরুল গীতির জন্য এক নামে ফিরোজা আপাকে সবাই চেনেন। উনার সময়ে আমাদের শিল্পীদেরকে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এটা বলার মতো না। উনার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ না থাকলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে দেখা হয়েছে। ওইটুকুর মধ্যেই তিনি আদর করেছেন, আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। আর এই মানুষটার নামে দেয়া পদকটি আমাকে দেয়া হলো, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পদক হয়ে থাকবে। পৃথিবীতে গান যতোদিন থাকবে, ফিরোজা বেগম আপার নামও ততোধিক থাকবে।

সম্মাননা হিসেবে রুনা লায়লাকে দেওয়া হয় দুই ভরি সোনার একটি পদক ও এক লাখ টাকার চেক।