রাস্তার পাশে শাক-সবজি চাষে সফল শামীম

0
24
মো.সুখন, শেরপুর প্রতিনিধি:
সবজি ভান্ডার খ্যাত শেরপুরের নকলা উপজেলায় রাস্তার পাশের পতিত জায়গায় পেঁপে ও শাক-সবজি চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি রাস্তার ভাঙ্গন রোধসহ বিপুল পরিমাণ বাড়তি আয় ও মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উজ্জল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এখানকার আবহাওয়া ও দোআঁশ মাটি শাক সবজি চাষের উপযোগী। তাই উপজেলার প্রায় সব রাস্তার পাশের পতিত জমিতে কমবেশি পেঁপে ও বিভিন্ন শাক-সবজি  চাষ করে এমনটাই প্রমান করছেন শত শত কৃষক ও পুকুর মালিকরা।
কয়েক বছর আগেও রাস্তার পাশের পতিত জমিকে কাজে লাগানোর কথা কেউ চিন্তাও করেনি। কিন্তু গত ৪-৫ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে পেঁপে ও শাক-সবজি লাগিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের দেখাদেখি রাস্তার পাশে
জমি আছে এমন সবাই চাষ করা শুরু করেছেন। নিজস্ব জমি ছাড়া, নামে মাত্র শ্রমে অল্প ব্যয়ে চাষ করে পারিবারের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট শাক সবজি বিক্রি করে প্রচুর টাকাও আয় করছেন তারা।
এমন এক সচেতন চাষি উপজেলার বানেশ্বরদী ইউপির বানেশ্বরদী মধ্যপাড়া গ্রামের শামীম আহমেদ। শামীম আহমেদ প্রভাতের ডাককে জানান, গত দুই বছর ধরে রাস্তার ধারে বছরে দুইবার মৌসুমি শাক-সবজি ও পেঁপে চাষ করে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট শাক-সবজি ও পেঁপে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
তার পুকুর রাস্তার ধারে হওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন শাক-সবজি ও পেঁপে চাষে রাস্তার পাশ যেন পূর্ণাঙ্গ একটি বাগানে পরিণত হয়েছে। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকে রাস্তার পাশে শাক-সবজি ও পেঁপে রোপন করে
অতিরিক্ত পুষ্টি ও টাকা পাচ্ছেন। বানেশ্বরদী, পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোণা, গৌড়দ্বার, উরফা, গনপদ্দী, নকলা, টালকী ইউনিয়ন সহ পৌর এলাকার প্রায় সব রাস্তার পাশেই নিয়মিত শাক-সবজি ও
পেঁপে চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-নাকুগাঁও স্থল বন্দর রাস্তার পাশে লাভা এলাকায়, নকলা-
কলাপাড়া, নকলা-শিববাড়ী, নকলা-শেরপুর বাইপাস রোড, নারায়নখোলা-চন্দ্রকোনা, গনপদ্দী-ছাল্লাকুড়া এসব রাস্তার ধারের পতিত জমিতে শাক-সবজি ও পেঁপে চাষের বিস্তার লক্ষণীয়, যা সবার নজর কেড়েছে।
বানেশ্বরদীর শামীম আহদেদ, রকিব, দেলোয়ার; ছাল্লাতুলা এলাকার হাবিবুর রহমানের
ছেলে বাংলায় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী তমিজ উদ্দিন ও এইচএসসিতে পড়–য়া ফয়সল, পোলাদেশীর এএসএমবি করিম, বানেশ্বরদী খন্দকার পাড়ার মোকলেছুর রহমান, এসএম মনির,
হেলাল, ঈসমাইল, কামাল, কমল, বেলাল; পাঠাকাটার মিলন, চরঅষ্টধরের সামছুল, চন্দ্রকোণার
মোকসেদ, আজিম ও মুক্তার; গৌড়দ্বারের সুমন, উরফার রেজাউল করিম ও মোশাররফ; গনপদ্দীর
ছাইদুল ইসলাম, ডাকাতিয়াকান্দার মোশারফ, লিটন, মোর্শেদ আলম; টালকী ইউনিয়নের
বেলায়েত হোসেন ও আক্তার; পৌরসভার হাফিজুর রহমান, লাভার শহিদুল ইসলাম ও জালালপুর
এলাকার কামাল; কৃষ্ণপুরের ফোরকান, জগলু, মজনু, মোতালেব ও হাবিবুরের সাথে কথা
বলে জানা গেছে, তারা কয়েক বছর ধরে রাস্তার পাশে শাক সবজি চাষ করে পুষ্টি চাহিদা
মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা আয় করছেন। এতে করে বছরে প্রতি পরিবারে শাক
সবজি ক্রয় বাবদ অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেচে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি জানান,
উপজেলায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার রাস্তার পাশে বছরে দুইবার শাক-সবজি ও পেঁপে চাষ
করা হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন জাতের কালাই চাষ করেও সুফল পাচ্ছেন কৃষক। উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, নকলার মতো সারাদেশের রাস্তার পাশের
পতিত জমিকে শাক-সবজি ও পেঁপে চাষ করার ব্যবস্থা করতে পারলে পুষ্টির চাহিদা
মেটানোর পাশাপাশি আসতে পারে বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা। তাছাড়া রাস্তার ভাঙ্গন
রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।